চার রাজাকারের ফাঁসি, একজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড

কিশোরগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধাদের আনন্দ মিছিল, মিষ্টি বিতরণ

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জের দুই সহোদর অ্যাডভোকেট শামসুদ্দিন আহমেদ ও সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন মো. নাসিরউদ্দিন আহমেদসহ চারজনকে মৃত্যুদণ্ড ও একজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়ায় আনন্দ মিছিল করেছেন করিমগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধা ও ক্ষতিগ্রস্ত স্বজনরা। তারা একে অপরকে মিষ্টি খাওয়ান এবং সাধারণ মানুষের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করেন।Kishoreganj,-FF-Reaction-Photo-3.5-(2)

মঙ্গলবার রায় ঘোষণার পরপরই শহরের মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয় থেকে একটি আনন্দ মিছিল বের করা হয়। এতে মুক্তিযোদ্ধা, একাত্তরে ক্ষতিগ্রস্তরা ও তাদের স্বজনরা ছাড়াও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয়ে এসে জড়ো হয়। সেখানে এক আলোচনা সভাও হয়।

আলোচনা সভায় মুক্তিযোদ্ধা জেলা ইউনিট কমান্ডার মো. আসাদ উল্লাহ ও ডেপুটি কমান্ডার আবদুল মান্নান বক্তব্য রাখেন। তারা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তা দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান। 

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত অন্য দু’জন হচ্ছেন রাজাকার কমান্ডার গাজী আব্দুল মান্নান ও হাফিজ উদ্দিন। আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে আজহারুল ইসলামকে।

দীর্ঘদিন পর হলেও বিচার হওয়ায় মামলার বাদী করিমগঞ্জ আয়লা গ্রামের বাসিন্দা গোলাপ মিয়া, আশরাফ উদ্দিন ও তার লোকজন আনন্দ প্রকাশ করেন। তারা আশা করছেন দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, আসামিদের মধ্যে শামসুদ্দিন ছাড়া বাকি চারজনই পলাতক।

মুক্তিযুদ্ধের সময় কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জের আয়লা গ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে অনেকগুলো হত্যাকাণ্ড ঘটায় স্থানীয় রাজাকার-আলবদররা। করিমগঞ্জের আয়লা গ্রামের মিয়া হোসেন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২০১০ সালের ২ মে মামলা করেন শহীদের ছেলে গোলাপ মিয়া। মামলা দায়েরের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কর্মকর্তারা একাধিকবার সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করেন।

মঙ্গলবার সকালে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার ২৩ তম এ রায় ঘোষণা করেন চেয়ারম্যান বিচারপতি মোহাম্মদ আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল। বিচারিক প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হচ্ছেন বিচারপতি শাহিনুর ইসলাম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দী।

আরও পড়ুন:

হত্যানাটোরে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা : আটক ৪

/বিটি/এফএস/ আপ-এআর/