আটককৃত জঙ্গিরা হলো- ময়মনসিংহের হালুযাঘাটের মারফত আলীর পুত্র শহিদুল ইসলাম (২৫), ইকবাল হোসেনের পুত্র আল আমিন (২৫), ধোবাউড়ার দিঘিরপাড়ের আইনুদ্দিনের পুত্র আশিকুর রহমান (১৯), নেত্রকোনা জারিয়ার হাবিবুর রহমানের পুত্র মাসুম আহমেদ (৩০), একই এলাকার বোরহান উদ্দিনের পুত্র শাহ আল হোসেন শামীম (২৭), নেত্রকোনার টেংগাপাড়ার সবুজ মিয়ার পুত্র নাসির উদ্দিন (২৭) ও জারিয়ার শেখ লতিফের পুত্র রোমান মিয়া (২৬)। পুলিশ জানিয়েছে, নাসির হলো ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার (৩ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে বাড়িটি ঘিরে রেখে পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। প্রায় পৌনে ২ ঘণ্টার অভিযান শেষে ৭ জঙ্গিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জেলা গোয়েন্দা কার্যালয়ে নেওয়া হয়। এ সময় ডিআইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ র্যা ব এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছিলেন।
পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, অ্যাডভোকেট আসিফ আনোয়ারের বাসা ভাড়া নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে এখানে অবস্থান করছিল জঙ্গিরা। তারা জানিয়েছে, ব্যবসা করার কথা বলে বাসাটি ভাড়া নেয় তারা। কিন্তু তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে বেশকিছু জিহাদি বই, কম্পিউটার ও ইলেক্ট্রনিকস সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।
জঙ্গিদের কাছ থেকে প্রায় ৭০ লাখ টাকা লেনদেনের আল আরাফাহ প্রাইভেট ব্যাংকের একটি চেক বই পাওয়া গেছে। এই চেক বইয়ের মাধ্যমে জঙ্গিরা বিভিন্ন স্থানে অর্থ লেনদেন করেছে বলেও জানান পুলিশ সুপার। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।
এদিকে অ্যাডভোকেট আসিফ আনোয়ারের বাড়ির পাশের বাসার খালেদা বেগম জানান, মাথায় টুপি পড়া দাড়িওয়ালা লোকদের তারা কখনও দেখেননি। তাদের কোনও কার্যক্রম চোখে পড়েনি বলে জানান এই গৃহবধূ।
প্রতিবেশি স্কুল শিক্ষক সুব্রত পাল জানান, সিলেট ও কুমিল্লার পর ময়মনসিংহে পাশের বাসায় জঙ্গিরা আস্তানা করে আছে এটা বিশ্বাস হচ্ছে না। তিনি সব বাড়িওয়ালাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
ঘনবসতিপূর্ণ এমন জায়গায় জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পাওয়ায় হতবাক স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর ফারুক হাসান। তাই তিনি ভালোভাবে জেনেশুনে বাড়িওয়ালাদের বাসা ভাড়া দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পৌর কাউন্সিলর বলেছেন, ‘জঙ্গিদের উৎখাতে সাধারণ মানুষকে সচেতন এবং সোচ্চার হতে হবে।’
প্রসঙ্গত, জেএমবি প্রধান বাংলা ভাইয়ের আস্তানা ছিল ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায়। সেখানে জঙ্গিরা আশ্রয় নিয়ে বড় ধরনের নাশকতা ঘটানোর আগেই প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে, এমন প্রত্যাশা সবার।
/জেএইচ/