নেত্রকোনার বধ্যভূমি: ৪৬ বছরেও নির্মিত হয়নি স্মৃতিফলক

ত্রিমোহনী বদ্ধভূমি, যেখানে এক সঙ্গে ২৫ জনকে হত্যা করা হয়েছিল

স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরও অরক্ষিত ও অবহেলায় পড়ে আছে নেত্রকোনার বধ্যভূমিগুলি। এখনো নির্মাণ করা হয়নি কোনও স্মৃতিফলক। বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ধারায় দেশের অনেক পরিবর্তন হলেও নেত্রকোনার বন্ধভূমিগুলোর কোনও পরিবর্তন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুক্তিযোদ্ধারাসহ ও নেত্রকোনার সধারণ মানুষ।

স্মৃতিফলক নির্মিত না হওয়ায় নেত্রকোণার ছোট-বড় ১৭টি বধ্যভূমির অধিকাংশই হারিয়ে যেতে বসেছে। সেগুলো চিহ্নিত করে এখনই স্মৃতিফলক নির্মাণ দাবি জানায় নেত্রকোনাবাসী

জানা যায়: জেলা শহরের সাতপাই টেকনিক্যাল স্কুলের ভেতরে, ত্রিমোহনী কিংবা মুক্তারপাড়ার মতো স্থানেও নির্মাণ করা হয়নি স্মৃতিফলক। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় এলাকার আলবদর ও রাজাকারদের সহযোগিতায় পাকিস্তানী বাহিনী নিরীহ ও মুক্তিকামী অসংখ্য বাঙালিকে ধরে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে এসব বধ্যভূমিতে ফেলে রাখত। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানী সেনারা অসংখ্য মা-বোনকে ধরে নিয়ে এসব স্থানে নির্যাতনের পর হত্যা করত। অগণিত শহীদের রক্তে ভেজা এসব মাটি। সংরক্ষণের অভাবে চিহ্নগুলো মুছে যেতে বসেছে। অনেকেই এসব স্থান অবৈধ দখলের পাঁয়তারা করছে। অযত্নে আর অবহেলায় এসব স্থান পড়ে থাকলেও তা সংস্কারের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়নি কোনও উদ্যোগ। জাতীয় দিবসগুলো আসলে কিছু কিছু বদ্ধভূমির কদর বাড়লেও সারা বছরই এগুলো থাকে অযত্নে আর অবহেলায়।

শহীদ পরিবারের সন্তান মো. আব্দুর রব রব্বানী বলেন, ‘আমার চাচা বদিউজ্জামান মুক্তা ও সিদ্দিকুর রহমানসহ যে ছয়জনকে বিরামপুর বাজারে হত্যা করা হয় সেই স্থানে আজও নির্মাণ হয়নি কোনও স্মৃতিফলক। যদি স্মৃতিফলক নির্মাণ করা হতো তাহলে আগামী প্রজন্ম তাদের সম্পর্কে জানতে পারতো।

এ ছাড়াও ৭১’র ২২ সেপ্টেম্বর পূর্বধলার ত্রিমোহিনীতে সবচেয়ে বড় হত্যাজজ্ঞ ঘটেছিল। সেদিন হানাদাররা সুরেশ সাহা, সতীস সরকার, স্বদেশ দত্তসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের ২৫জন নিরিহ মানুষকে ধরে এনে গুলি করে হত্যা করেছিল। স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরও জেলার সবচেয়ে বড় বধ্যভূমিগুলো পড়ে আছে অযত্নে আর অবহেলায়।

১৭টি বধ্যভূমিতে স্মৃতিসৌধ নির্মাণসহ এগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার দাবি জানান মুক্তিযোদ্ধাসহ এলাকাবাসী। নেত্রকোনা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার ও মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরী বলেন, ‘স্বাধীনতার এতো বছরেও কেন বদ্ধভূমিগুলোতে স্মৃতিফলক নির্মাণ করা হয়নি তা আসলে অবাক করার মত বিষয়। আমি চাই এসব স্থানে শহীদদের নাম সম্বলিত স্মৃতিফলক নির্মাণ করবে প্রশাসন।’

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক ড. মুশফিকুর রহমান বলেন, আমি জেলার বদ্ধভূমিগুলোতে স্মৃতিফলক নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দফরে প্রস্তাব পাঠিয়েছি। অনুমোদন পেলেই তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 আরও পড়ুন: ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে বরিশালে সেটেলমেন্ট অফিসের পেশকার আটক