১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ময়মনসিংহের গেরিলাযোদ্ধা বিমল পাল মাকে মিথ্যা বলে ভারতে গিয়েছিলেন যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিতে। পরে তার পুরো পরিবারও ভারতের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছিল। যুদ্ধ শেষে স্বাধীন দেশে ফিরে এসে তারা দেখেন বাড়ি-ঘর ভাঙচুর করা, রেখে যাওয়া মালামাল লুটপাট হয়ে গেছে। স্বাধীন দেশে নতুন করে তারা শুরু করেন মুক্ত জীবন।
পরিবারের সঙ্গে টগবগে যুবক বিমল পালও ছিলেন তখন পরিবারের সঙ্গে। তার সঙ্গে ছিল কলেজে যাওয়ার সঙ্গী বাই সাইকেল। কুশমাইল হিন্দুপাড়ার অনিল মণ্ডলের বাড়িতে বেশ কিছু দিন আশ্রয়ে থাকেন তারা। এসময় মা সুভাষিনী পালের কাছে মামা বাড়ি কিশোরগঞ্জের নিকলি যাওয়ার কথা বলে বিমল পাল সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। মামা বাড়িতে গিয়ে ওইদিনই (৯ মে) সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়েন বিমল পাল ভারতে প্রশিক্ষণ নেওয়ার উদ্দেশে। নিকলি, করিমগঞ্জ, তাড়াইল, মদন, ঠাকুরকোনা হয়ে সাইকেলে করে চলে যান ভারতের মেঘালয় রাজ্যের বাঘমারা ইয়ুথ ক্যাম্পে। এখানে এসে ক্যাম্প ইনচার্জ আব্দুল মজিদের কাছে ট্রেনিং শুরু হয় বিমল পালের। পরে জুন মাসের প্রথম দিকে তোড়া প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের উদ্দেশে আবারও রওয়ানা দেন বিমল পাল। ১২ জুন এসে উপস্থিত হন এবং এই ক্যাম্পে প্রায় ১ মাস গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন।
প্রশিক্ষণ শেষে ১৪ জুলাই বিমল পালের ডাক পড়ে ঢালু সাব সেক্টরে। এখানে কোম্পানি কমান্ডার ছিলেন আলী হোসেন (হালুয়াঘাট), প্লাটুন কমান্ডার মোজাফফর হোসেন (ফুলবাড়িয়া), সেকশন কমান্ডার ফারুক আহমেদ। গেরিলাযোদ্ধা বিমল পালের প্রথম সম্মুখ যুদ্ধ ছিল ১৭ জুলাই হালুয়াঘাটের নাগলা ব্রিজ ধ্বংস করার মধ্য দিয়ে। এরপর বারমারি অ্যাটাক, নুন্নি সীমান্তে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে প্রতিরোধ যুদ্ধ গড়ে তোলেন।
তিনি জানান, তার সবচেয়ে বড় যুদ্ধ ছিল ৩ নভেম্বর হালুয়াঘাটের তেলিখালি যুদ্ধ। এই যুদ্ধে কোম্পানি কমান্ডার আবুল হাশেমের সঙ্গে ১৩ রাজপুত রেজিমেন্ট যুক্ত ছিল। পাক সেনাদের শক্তিশালী ক্যাম্প-১ প্লাটুন ৩৪, পাঞ্জাব-১ প্লাটুন ৭১ উইং রেঞ্জারের সঙ্গে সমান সংখ্যক রাজাকার, আলবদর ছিল। যুদ্ধে ৮ জন মুক্তিযোদ্ধা ও ২১ জন ভারতীয় মিত্র বাহিনীর সদস্য শহীদ হন। এর বিপরীতে একজন পাকিস্তানি আত্মসমর্পণ করেন আর বাকি সবাই প্রাণ হারায় এবং রাজাকার, আলবদররা পালিয়ে যায়। পুরো তেলিখালী ক্যাম্প দখলে আসে মুক্তিযোদ্ধাদের।
বিমল পাল বলেন, ‘মা মারা গেছেন, কিন্তু মাকে মিথ্যা কথা বলে যুদ্ধে যাওয়ার সেই কথা আজও ভুলতে পারি না।’
বিমল পালের বড় ভাই অমল পাল জানান, ভারতের শরণার্থী শিবিরে খাওয়া-দাওয়ার কষ্টের সঙ্গে চিকিৎসার সুযোগ ছিল খুবই কম। শিবিরে কলেরা ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অসংখ্য শিশু ও বয়স্ক মানুষ মারা যায়। পরে কলকাতার খাসিয়াহিল জেলার বালাহাটি শরণার্থী শিবিরেও তারা বেশ কিছু দিন অবস্থান করেন। তখন কলকাতাতে বাবা মারা গিয়েছিলেন। পরে দেশ স্বাধীন হলে ২৪ জানুয়ারি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিমল পালের পরিবার দেশে ফিরে আসেন।
আরও পড়ুন-
দ্বিচক্র যানে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন (ফটো স্টোরি)
যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা
রাজারবাগে অস্ত্রাগার খুলে দিয়েছিলেন আবু শামা
‘আমরা যেখানে রেখে যাবো, তোমরা সেখান থেকে দেশকে আরও উন্নতির পথে নিয়ে যাবে’
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সমবেত কণ্ঠে ধ্বনিত হলো জাতীয় সঙ্গীত
স্বাধীনতা দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
শেখ কামালের নির্দেশনা পেয়েই পাগলা ঘণ্টা বাজান আব্দুল আলী
আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ: প্রধানমন্ত্রী
লাখো কণ্ঠে ধ্বনিত ‘আমার সোনার বাংলা’
জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
‘সেই নির্যাতন-হত্যার চিত্র এখনো মনে আছে তাদের’
সারাদেশে পালিত হচ্ছে ৪৮তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস
স্বাধীনতা দিবসে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলের দাবি
‘যুদ্ধদিনের স্মৃতিকাতরতায় কাটে প্রতিটি স্বাধীনতা দিবস’
এখনও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি গাইবান্ধার আবদুল হামিদ-মফছার আলী
মাকে মিথ্যা বলে প্রশিক্ষণ নিতে ভারতে গিয়েছিলেন গেরিলাযোদ্ধা বিমল পাল