ত্রিশালে সড়ক দুর্ঘটনা

ঋণের টাকায় কেনা সিনএনজিতেই প্রাণ গেলো সাত্তারের

‘কেমনে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করমু, কেমনেই বা দুই মেয়েকে মানুষ করমু? এভাবে বালুর ট্রাক আইসা আমার বাচ্চার বাপেরে মাইরা ফেলবো এটা তো ভাবতেও পারতাছি না। এখন কীভাবে চলবো আমার সংসার।’

ময়মনসিংহের ত্রিশালের বীররামপুর ভাটিপাড়া এলাকায় বালুবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত চালক আবদুস সাত্তারের স্ত্রী নাজমা আক্তার বিলাপ করতে করতে এই কথাগুলো বলছিলেন।

বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি জানান, গত ৩ মাস আগে সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি কেনার জন্য ত্রিশালের আনসার ভিডিপি ব্যাংক থেকে দুই লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। হাতে থাকা এক লাখ মিলিয়ে তিন লাখ টাকা দিয়ে অটোরিকশাটি কিনেছিলেন। কথা ছিল এটি চালিয়ে যে টাকা আসবে তা দিয়ে সংসার খরচ ও ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করবেন।

নাজমা আক্তার কানতে কানতে বলেন, ‘এখন তো দুই মেয়ে এবং আমারে অতল সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন। এখন সংসার কীভাবে চলবে, আর ঋণ পরিশোধ কীভাবে হবে?’

বীররামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাজমুল হক সরকার জানান, নিহত আব্দুস সাত্তার খুব সহজ-সরল এবং গরিব ঘরের সন্তান ছিলেন। সংসারের সচ্ছলতা আনতে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে নতুন একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা কিনেছিলেন। সাত্তারের মৃত্যুতে পরিবারটি একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছে। তবে নিহত চালক সাত্তারের পরিবারকে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সাধ্যমতো সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (১০ নভেম্বর) সকালে ময়মনসিংহের ত্রিশালের বীররামপুর এলাকায় বালুবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে অটোরিকশা চালক আব্দুস সাত্তারসহ (৪০) পাঁচ জন নিহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনার পর ত্রিশাল থানার ওসি মাইন উদ্দিন জানান, সকাল ৯টার দিকে বালিপাড়া থেকে বালু নিয়ে ত্রিশালের দিকে আসছিল ড্রাম ট্রাক। এ সময় বালিপাড়াগামী যাত্রীবাহী অটোরিকশা বীররামপুর ভাটিপাড়া নামক স্থানে পৌঁছালে ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে পাঁচ জন নিহত হয়েছেন।