‘১০ ছেলেমেয়ে খোঁজ নেয় না, কোনোমতে বেঁচে আছি’

‘৬০ বছর ধইরা মানুষের ক্ষেতে কামকাজ কইরা সংসার চালাইতাছি। এ পর্যন্ত ১০টা ছেরাছেরি (ছেলেমেয়ে) হইছে। ছয় ছেরা বিয়ে কইরে বউয়ের বাড়ি চলে গেছে। চার ছেরি বিয়ে করে জামাই ঘরে আনছে। ছেরাছেরি তাদের মতো কাজকাম করে সংসার চালাইতাছে। এই বয়সে অন্যের ক্ষেত-খামারে কাম কইরা যা পাই তাই দিয়ে বুড়ারে (স্বামী) নিয়ে কোনোমতে বেঁচে আছি। এভাবে আর কয়দিন বাঁচতে পারমু এই নিয়ে চিন্তায় ঘুম হয় না।’

কথাগুলো বলছিলেন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জয়ন্তি মারাক (৭৫)। ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী উপজেলা হালুয়াঘাটের শাকুয়াই ইউনিয়নের বাটরার বাসিন্দা তিনি। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বাটরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে এসেছেন।

বাটরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে এসেছেন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারীরা

জয়ন্তি মারাক জানান, এখনও আমন ধান পুরোপুরি কাটা শুরু হয়নি। ১৫ দিন পর ধান কাটা শুরু হবে। ধান কাটার কাজ করে ৪০০-৫০০ টাকা  মজুরি পাই। এরপর পৌষ মাসে বোরো ধান লাগানোর কাজ শুরু হবে। ওই সময়ে অনেকদিন কাজ করা যায়। 

তিনি জানান, দিনমজুরি করে যে টাকা আয় হয়, তা দিয়ে অসুস্থ স্বামীর ওষুধপত্র কিনতে হয়। বাকি টাকায় সংসার চালাতে হয়। মাতৃতান্ত্রিক পরিবার হওয়ায় ছয় ছেলে বিয়ে করে স্ত্রীর সঙ্গে চলে গেছে। চার মেয়ে বিয়ে করে সংসার চালাচ্ছে। অনেক কষ্ট করে সংসার চালাচ্ছেন জয়ন্তি।

জয়ন্তি মারাক বলেন, ছেলেমেয়েরা টাকা পয়সা তো দেয় না; এমনকি খোঁজ নেয় না। শেষ জীবনে এসেও খুব কষ্টে দিন কাটাইতে হইতাছে।