পুরনো প্রশ্নে এসএসসির সংক্ষিপ্ত পরীক্ষা

ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেওয়ার কথা থাকলেও করোনার জন্য তা সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমানে করোনা সংক্রমণ কমে আসায় সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে সময় এবং নম্বর কমিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। গত রবিবার (১৪নভেম্বর) থেকে এসএসসি ও সমমানের এ পরীক্ষা শুরু হয়। তবে পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসের প্রশ্নপত্রে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের পরীক্ষা নেওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। মঙ্গলবার (১৬ নভেম্বর) ময়মনসিংহ সদরের দাপুনিয়া কাওয়ালটি ইসলামিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রে সরেজমিনে গিয়ে পুরনো প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নিতে দেখা যায়। 

শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আজ এসএসসি বিজ্ঞান বিভাগের রসায়ন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। দেখা গেছে পুরনো প্রশ্নেই হয়েছে পরীক্ষা। নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নে আগের নিয়মে ২৫টি প্রশ্নের উত্তরে ২৫ মিনিট সময় লিখা আছে। তবে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে ১২টি প্রশ্নের উত্তর দিতে ১৫ মিনিট সময় দেওয়া হয়েছে। তবে প্রশ্নে এ ধরনের কোনও নির্দেশনা নেই।

সৃজনশীল প্রশ্নেরও একই অবস্থা। আটটি প্রশ্নের মধ্যে ৫০ নম্বরের জন্য পাঁচটির উত্তর দিতে বলা হয়েছে, সময় ২ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট। তবে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে দুটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। ২০ নম্বরের উত্তর দিতে শিক্ষার্থীরা পাবেন ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট। তবে প্রশ্নে এ ধরনের কোনও নির্দেশনা ছিল না।

এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। অনেক শিক্ষার্থী প্রশ্নের ধরন দেখে কান্না করেছেন বলে জানিয়েছেন কেন্দ্র সচিবরা। দাপুনিয়া কাওয়ালটি ইসলামিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী সানাউল্লাহ বলেন, পুরনো প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ায় প্রথম দিন আমরা বিভ্রান্তিতে পড়েছিলাম। এ কারণে অনেকের পরীক্ষাও খারাপ হয়েছে। পরে কেন্দ্রের শিক্ষকরা আমাদেরকে বিষয়টি বুঝিয়ে দেন। তবে সংক্ষিপ্ত সিলেবাস অনুযায়ী নতুন প্রশ্ন করে পরীক্ষা নেওয়া হলে ভালো হতো। 

একই কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী রাজিয়া আক্তার বলেন, এসএসসি পরীক্ষা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। এই পরীক্ষার প্রশ্ন নিয়ে বিভ্রান্তিতে আমাদের মতো মফস্বলের শিক্ষার্থীরা ক্ষতির শিকার হয়েছেন। প্রশ্নে সুনির্দিষ্টভাবে সময় এবং নম্বর বণ্টন না থাকায় এবং পুরনো প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ায় অনেকে ভুল করে সৃজনশীল দুটি প্রশ্নের জায়গায় তিনটি কিংবা চারটিরও উত্তর দিয়েছেন।  

অভিভাবক কামরুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষা নেওয়ার জন্য সরকার অনেক সময় পেয়েছে। এরপরেও পুরনো প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ায় আমরা বিস্মিত। পুরনো প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ায় শিক্ষার্থীরা প্রথম দিন বিভ্রান্ত হয়েছেন। এতে অনেকের পরীক্ষাও খারাপ হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা দিতে গিয়ে বিভ্রান্ত হয়েছেন জানিয়ে দাপুনিয়া কাওয়ালটি ইসলামিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, পুরনো প্রশ্নে পরীক্ষা হওয়ায় প্রথম দিন শিক্ষার্থীরা বিভ্রান্ত হয়। পরে তাদের বুঝিয়ে কিছুটা সামাল দেওয়া গেছে। তবে সংক্ষিপ্ত সিলেবাস ঘোষণার পর নতুন করে প্রশ্ন করে পরীক্ষা নেওয়া হলে শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো হতো।

ময়মনসিংহ জেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. চাঁন মিয়া বলেন, পুরনো প্রশ্নে পরীক্ষা দিতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী হতাশ হয়েছে। এ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

তবে পুরনো প্রশ্নে শিক্ষার্থীদের সমস্যা হওয়ার কথা না বলে দাবি করেছেন ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. গাজী হাসান কামাল।

তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সরকারের নির্দেশে আন্তঃবোর্ড বৈঠকে পুরনো প্রশ্নে পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। এ বিষয়ে কেন্দ্র সচিবদের আগে থেকেই অবহিত করা হয়েছে এবং প্রচারণা চালানো হয়েছে। যে প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে, এটি ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি পরীক্ষা নেওয়ার জন্য তৈরি হয়। তবে পরীক্ষা না হওয়ায় সেই প্রশ্নেই পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে পরীক্ষার্থীদের খুব একটা সমস্যা হওয়ার কথা না।