ভোট কারচুপির অভিযোগ, পুনর্নির্বাচনের দাবি নৌকার প্রার্থীর

দ্বিতীয় ধাপে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের নড়াইল ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে পুনর্নির্বাচনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী।

মঙ্গলবার (১৬ নভেম্বর) বিকালে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ  সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সাইফুল ইসলাম। এ সময় সদস্য প্রার্থী মো. হারুনুর রশিদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোর্শেদ আনোয়ার খোকন, চয়ন কুমার সরকার, পল্লব ভাটসহ হালুয়াঘাটের নড়াইলের কর্মী-সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী বলেন, গত ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন চলাকালে নড়াইলের কাওয়ালীজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণার সময় কেন্দ্রের পাশে কিছু ব্যালট ও সিলযুক্ত ব্যালট পাওয়া যায়। এ নিয়ে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। তখন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং পোলিং অফিসার কেন্দ্রের ব্যালট জব্দ করেন। পরবর্তী সময়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসে কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ নেন। ওই কেন্দ্রে ভোট কারচুপির বিষয়টি জানালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, যথাযথ কর্তৃপক্ষ বরাবর দরখাস্ত করেন, আমি আপনাদের পক্ষে সুপারিশ করবো। 

তিনি আরও অভিযোগ করেন, নৌকা প্রতীকের পোলিং এজেন্টদের বের করে দিয়ে ভোট গণনা করা হয়। কোনও প্রকার স্বাক্ষর রাখা হয়নি নির্বাচনি ফলাফল সিটে। যা দুর্নীতির সামিল।

সংবাদ সম্মেলনে সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, নির্বাচনে কারচুপির প্রতিবাদ জানিয়ে ও পুনর্নির্বাচনের দাবিতে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে আবেদন করেছি। যার অনুলিপি প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হয়েছে।

হালুয়াঘাটের কাওয়ালীজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন বলেন, কেন্দ্রের পাশে সিলযুক্ত ব্যালট পাওয়ার কোনও ঘটনা ঘটেনি। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার আগ মুহূর্তে মেম্বার পদপ্রার্থী হারুনুর রশিদ ফলাফল না মেনে পুনরায় ভোট গণনার দাবি করেন। তার কথামতো পুনরায় গণনা না করায় হারুনুর রশিদের নেতৃত্বে দুই থেকে আড়াইশ লোকজন নির্বাচনি কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের কেন্দ্রে আটকে রাখেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হয়। তিনি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ স্ট্রাইকিং ফোর্স পাঠিয়ে দেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আশ্বাসে উত্তেজিত জনতা নিয়ন্ত্রণে আসে। ফলাফল ঘোষণার পর প্রশাসনের মাধ্যমে আমরা কেন্দ্র ত্যাগ করি। নির্বাচনে কোনও কারচুপির ঘটনা ঘটেনি।