নেত্রকোণার বারহাট্টায় মডেল মসজিদ নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ইট, পাথর, রডসহ বিভিন্ন ধরনের নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। এ অবস্থায় গত রবিবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় হঠাৎ তৃতীয় তলায় একটি বিমসহ পিলার ধসে পড়ার শব্দ পান আশপাশের লোকজন। পরে ঠিকাদারের লোকজন রাতারাতি ভাঙা বিম সরিয়ে নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনার তদন্তের দাবি তুলেছেন তারা।
জানা যায়, সারাদেশে প্রতিটি জেলা সদর ও উপজেলা পর্যায়ে একটি করে একই ডিজাইনের মডেল মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় বর্তমান সরকার। জেলা গণপূর্ত বিভাগের বাস্তবায়নে বারহাট্টায় উপজেলা ভূমি কার্যালয় এলাকায় ওই মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে। যার প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় ১২ কোটি ৪২ লাখ ৯২ হাজার ৬২৮ টাকা।
২০১৯ সালের ২৩ এপ্রিলে স্টার লাইন সার্ভিস লিমিটেড অ্যান্ড নাঈমা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কাজের মেয়াদকাল ধরা হয় ১৫ মাস। সে হিসাবে ২০২০ সালের জুলাইয়ে কাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু কাজের সার্বিক অগ্রগতি এখনও প্রায় ৩৫ শতাংশ বাকি।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, মডেল মসজিদের নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকে নানারকম অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। তবে কোনও অভিযোগের তোয়াক্কা না করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে কাজ করছিল। এ অবস্থায় গত রবিবার সন্ধ্যায় তৃতীয় তলার দক্ষিণপাশে নির্মাণাধীন একটি বিম ও পিলার হঠাৎ ধসে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে মুসল্লিসহ স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন জানান, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ঠিক নয়। শিডিউল মোতাবেক কাজ করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, পিলার ও বিম ভেঙে পড়েনি, কাজে কিছু ভুল থাকায় নিজেরাই ভেঙে ফেলেছি। রড, পাথরসহ অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রী গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলী দিয়ে পরীক্ষা করে নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
নির্মাণ কাজে কোনও অনিয়ম হয়নি বলে দাবি করেছেন জেলা গণপপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসিনুর রহমানও। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, বিম ও পিলার ধসে পড়েনি। নির্মাণ কাজে ত্রুটি থাকায় আমরা বলেছি তা ভেঙে নতুন করে করার জন্য। আমাদের নির্দেশ পেয়েই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তৃতীয় তলার বিম ও পিলার ভেঙে নতুন করে আবারও কাজ করছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম মাজহারুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।