‘নববর্ষের আনন্দ শুধু বড়লোকদের জন্য’

‘শাকপাতা তুইলে বিক্রি করে যা টাকা পাই তাই দিয়ে চাল-ডাল কিনে কোনোমতো সংসার চলে। কাম কাজ করতে না পারলে খাবার জোটে না। পহেলা বৈশাখ, বাংলা নববর্ষের আনন্দ আমাদের জীবনে কোনোদিন আসে না। নববর্ষের আনন্দ শুধু বড়লোকদের জন্য আমাদের মতো অসহায় গরিবদের জন্য না।’ আক্ষেপ নিয়ে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন ময়মনসিংহ মহানগরীর থানা ঘাট এলাকার ব্রহ্মপুত্র শহররক্ষা বাঁধ এলাকার বস্তির বাসিন্দা বিধবা সালেহা বেগম (৭০)।

৪০ বছর আগে অসুস্থ হয়ে সালেহা বেগমের স্বামী শহর আলী মারা যান। সালেহা বলেন, দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। বড় মেয়ে জুলেখা বেগমের স্বামী ছয় বছর আগে দুটি কন্যা সন্তান রেখে মারা গেছে। এখন শাকপাতা বিক্রি করে মেয়ে এবং দুই নাতনিকে নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছি।

সালেহা আরও বলেন, ‘শাকপাতা তুইলা কিছু বিক্রি করছি আর কিছু রাখছি রাতে খাওয়ার জন্য। শাক রান্না করছি আর ডাল রান্না করে ভাত দিয়ে পরিবারের সবাইকে নিয়ে রোজার ইফতারি করবো।’

শুধু সালেহা বেগম না, থানাঘাট এলাকার বস্তির অধিকাংশ নিম্ন আয়ের মানুষের একই অবস্থা। একই বস্তির আনু বেগম (৬৫) বলেন, ‘খাবার জিনিসসহ বাজারে সবকিছুর দাম যেমনে বাড়ছে, আমাদের মতো বস্তিবাসীর খুব কষ্টে দিন পার করতে হইতাছে। কাম কইরা আয় রোজগার করতে পারলে সংসার চলে, নাইলে উপাস থাকতে হয়। পকেটে টাকা থাকলে আনন্দ উৎসব করা যায়। আমাদের প্রতিদিনের খাবারই জোটে না, বাংলা নববর্ষের আনন্দ করবো কীভাবে। রোজায় ইফতারি করতে হয় শাকপাতা ও ডাল-ভাত দিয়ে।’ কষ্টের সময়টাতে কাউকে কখনও পাশে পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ করেন তিনি।