আমন ক্ষেত ফেটে চৌচির, ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কা

ময়মনসিংহ সদরের গোপালনগর গ্রামের কৃষক তালেব উদ্দিন ষাট শতক জমির মধ্যে ৪০ শতকে রোপা আমন ধানের চারা রোপণ করেছেন। হঠাৎ বৃষ্টি হওয়ায় সেই পানিতে চারাগুলো রোপণ করেন। কিন্তু এরপর থেকে আর বৃষ্টির দেখা নেই। পানির অভাবে ক্ষেত ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। 

তালেব উদ্দিন বলেন, ‘বৃষ্টি হয়ে পানি ক্ষেতে যাওয়ার পর ৪০ শতক জমিতে ধানের চারা রোপণ করেছিলাম। এরপর থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় পানির অভাবে ক্ষেতের মাটি ফেটে গেছে। লালচে বর্ণ হয়ে চারাগুলো নষ্ট হতে বসেছে।’

শুধু তালেব উদ্দিনের ক্ষেতই না, বৃষ্টি ও সেচের অভাবে ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকার রোপা আমন ধানের ক্ষেত ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। রোপণ করা অনেক চারা নষ্ট হচ্ছে। এতে আমন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। 

গোপালনগর গ্রামের আরেক কৃষক রুহুল আমিন বলেন, ‘একদিকে বৃষ্টির অভাবে পানি পাওয়া যাচ্ছে না, অন্যদিকে সেচের ব্যবস্থাও নেই। ফলে পানির অভাবে ধানক্ষেত ফেটে চৌচির হয়ে পড়েছে। সময়মতো পানি না পেলে ধানের ফলন অর্ধেকে নেমে আসবে। এর ফলে আমনের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যহত হবে।’

বোররচর এলাকার কৃষক জামাল উদ্দিন বলেন, ‘সাধারণত বৃষ্টির পানি দিয়ে আমন ধান আবাদ করে থাকেন কৃষকরা। এ বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় রোপণ করা ধানের চারা নষ্ট হতে বসেছে। পানির অভাবে এবার আমনের ভালো ফলন পাওয়া যাবে না।’

জেলা কৃষি অধিদফতরের তথ্যমতে, ময়মনসিংহ জেলার দুই লাখ ৬৮ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত চারা রোপণ করা হয়েছে দুই লাখ ২২ হাজার ৪০৫ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে সাত লাখ ২১ হাজার ৯৭৩ মেট্রিক টন। 

ময়মনসিংহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. মতিউজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, এ পর্যন্ত ৮০ শতাংশ জমিতে রোপা আমন ধানের চারা রোপণ করা হয়েছে। ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত চারা রোপণ করতে পারবেন কৃষকরা। বৃষ্টির অভাবে ও সেচ দিতে না পারায় বেশকিছু আমন ধানের ক্ষেত ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। তবে বৃষ্টি হলে ফেটে যাওয়া ক্ষেতের চারা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা নেই। প্রতিবছরের মতো এবারও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে বলে দাবি এই কৃষিবিদের।