প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতের আশায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষক হাবিবুর রহমান নেত্রকোনা থেকে ঢাকার উদ্দেশে পায়ে হেঁটে যাত্রা শুরু করেছেন। গন্তব্যে পৌঁছাতে এই শিক্ষককে পাড়ি দিতে হবে ১৪৭ কিলোমিটার পথ। তার আশা, প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিজের প্রতিষ্ঠিত প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের দৈন্যদশার কথা তুলে ধরে এমপিওভুক্ত করার আবেদন জানাবেন। সোমবার (৯ অক্টোবর) দুপুর সোয়া ১টার দিকে নেত্রকোনা পৌরসভার আন্তঃজেলা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে এই যাত্রা শুরু করেন।
হাবিবুর রহমান নেত্রকোনা সদর উপজেলার সাজিউড়া অটিজম ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান শিক্ষক। যাত্রার আগে পারলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জেলার বিভিন্ন প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তার সঙ্গে সংহতি জানান। এই সময় কয়েকজন শিক্ষক তার পদযাত্রায় অংশ নেন।
হাবিবুর রহমান জানান, নেত্রকোনা সদরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ২৬টি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ২৫ বছর আগে ১৯৯৭ সালে সদর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের সাজিউড়া গ্রামে সাজিউড়া অটিজম ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টি স্থাপন করেন তিনি। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে বুদ্ধি, বাক, দৃষ্টি, ও শারীরিক প্রতিবন্ধী মিলিয়ে মোট ১৬৪ জন শিক্ষার্থী এবং ১৪জন শিক্ষক ও কর্মচারী রয়েছেন। ২০ শতক জমিতে স্থাপিত এই বিদ্যালয়ে ১০ জন শিক্ষার্থী আবাসিক হিসেবে থেকে লেখাপড়া করছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, এলাকাবাসীর সহায়তায় চলছে বিদ্যালয়টি। এই অবস্থায় শিক্ষক কর্মচারীরা হতাশায় রয়েছেন। বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত করার দাবি দীর্ঘদিনের। কিন্তু কোনও কাজ হচ্ছে না। তাই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলার এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরার জন্য তিনি পায়ে হেঁটে যাত্রা শুরু করেছেন।
বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি নেত্রকোনা জেলা শাখার আহ্বায়ক আবদুর রব খান ঠাকুর বলেন, জেলায় মোট ২৬টি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের মধ্যে কামরুন্নেছা আশারাফ বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টি একমাত্র এমপিওভুক্ত হয়েছে। আমরা চাই, অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও এমপিওভুক্ত করা হোক। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে হাবিবুর রহমান অনেক কষ্ট করে বিদ্যালয়টি চালাচ্ছেন। সরকারি নীতিমালার সবকিছুই এই বিদ্যালয়ের রয়েছে। আমরা হাবিবুর রহমানের এই পদযাত্রার শুভ কামনা করি। আশা করি, প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ লাভের মাধ্যমে তার মনের আশা পূরণ হবে।
নেত্রকোনা প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মামুন মিয়া বলেন, আমরা চাই, যে উদ্যোগটা হাবিবুর রহমান নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের জন্য তা যেন সফল হয়। প্রধানমন্ত্রী যেন বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করেন। আমরা চাই, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যেন তার সাক্ষাতের ব্যবস্থা হয়।
নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার কাছুটিয়া সৈয়দ আলী আকবর অটিজম ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হুমায়ূন কবীর বলেন, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষক হাবিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য যে যাত্রা শুরু করেছেন তাকে স্বাগত জানাই। প্রধানমন্ত্রী যেন ওনার আবেদনটা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ গ্রহণ করেন এবং তার যাত্রা যেন সফলতার মুখ দেখে।
পদযাত্রা শুরুর সময় হাবিবুর রহমান বলেন, সরকারি নীতিমালা মেনে দীর্ঘদিন ধরে আবেদন নিবেদন করে যাচ্ছি। কিন্তু কোনও সুরাহা না পাওয়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা ভবিষ্যতের চিন্তায় হতাশায় ভুগছেন। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হাবিবা রহমান খান বিদ্যালয়টির দৈন্যদশা ও এমপিওভুক্তিকরণের বিষয় তুলে ধরে গত বছরের ৩১ জানুয়ারি সংসদে এক মিনিট ৩৮ সেকেন্ড কথা বলেছেন। ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পরিচালক-৭ আল মামুন মুর্শেদ স্বাক্ষরিত চিঠিও পাঠানো হয় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবরে। এতেও বিদ্যালয়টির এমপিওভ্ক্তুকরণ হয়নি। এ অবস্থায় সবশেষ ভরসা হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য পায়ে হেঁটে রওনা দিয়েছি। প্রতিদিন অন্তত ২৫ থেকে ৩০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছানোর আশা করছি।