ময়মনসিংহ মেডিক্যালে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী

হঠাৎ করেই ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বেড়েছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। তবে অধিকাংশ ডেঙ্গু রোগী ঢাকা ও গাজীপুরে আক্রান্ত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি এসে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. গোলাম কিবরিয়া এ তথ্য দনিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের বিভিন্ন ওয়ার্ডে মোট ৩৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি আছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ২৮ জন পুরুষ, পাঁচ জন নারী এবং দুই শিশু রয়েছে। তিনি আরও জানান, ভর্তি হওয়া রোগীরা সবাই ঢাকা ও গাজীপুর থেকে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে এসে ভর্তি হয়েছেন। 

বৃহস্পতিবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ার প্রমাণও মিলেছে। 

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের হাসপাতালে অক্টোবরের ১২ দিনেই পাঁচশ’র বেশি ডেঙ্গু রোগী

হাসপাতালের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী বিকাশ চন্দ্র (৪৫) জামালপুর জেলার বাসিন্দা। তিনি বলেন, আমি গাজীপুরের কোনাবাড়ি যমুনা টেক্সটাইলে সহকারী ব্যবস্থাপকের চাকরি করি। গত ৭ অক্টোবর শুক্রবার থেকে সেখানে হঠাৎ প্রচণ্ড মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা ও জ্বর হয়। সেখানে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হলে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হই। পরে সেখান থেকে এসে ১০ অক্টোবর জামালপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলাম। শরীর খারাপ হওয়ায় বুধবার ১২ অক্টোবর উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। রক্তের প্লাটিলেট কমে যাওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর শরীরের রক্ত দিতে হয়েছে। ভর্তির পর থেকে স্যালাইন চলছে এবং অন্যান্য ওষুধ চলছে। আগের চেয়ে এখন কিছুটা ভালো বলে জানান তিনি। 
 
ঢাকার মিরপুরে পোশাক কারখানায় চাকরি করেন হাবিবুর রহমান। তিনি জেলার তারাকান্দা উপজেলার বাসিন্দা। তিনি বলেন, হঠাৎ মাথা ও শরীর ব্যথার পাশাপাশি জ্বর অনুভব করি। সেখানেই পরীক্ষার পর ডেঙ্গু আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত হই। পরে ময়মনসিংহে এসে হাসপাতালে ভর্তি হই। এখন আগের চাইতে অনেকটা ভালো আছি।

ময়মনসিংহের তারাকান্দার বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র রকিকুল হাসান হৃদয় (২০) বলেন, পুজোর ছুটিতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর বাড়িতে আসার পর ৪ অক্টোবর শরীরে জ্বর আসে। সঙ্থে মাথা ও শরীর ব্যথা হতে থাকে। অনেক ওষুধ খাওয়ার পরেও জ্বর ভালো না হওয়ায় পরীক্ষা শেষে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হই। পরে গত সোমবার (১০ অক্টোবর) হাসপাতালে ভর্তি হই। চিকিৎসা নেওয়ার পর বর্তমানে জ্বর কিছুটা ভালো হলেও শরীর খুবই দুর্বল। 

মমেকের ডেঙ্গু ওয়ার্ডের ফোকাল পারসন কায়সার হাসান খান বলেন, হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তবে আক্রান্ত অধিংকাশ রোগী ঢাকা ও গাজীপুরে অসুস্থ হয়েছেন। ডেঙ্গু থেকে রক্ষা পেতে হলে সচেতনতার বিকল্প নেই বলে বলে মন্তব্য করেন তিনি।