কমেছে হয়রানি-ভোগান্তি, এসেছে রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব

হয়রানি ও ভোগান্তি কমে যাওয়ায় ২০২২ সালে ময়মনসিংহ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে প্রায় ৫১ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। এর আগের বছর ২০২১ সালে রাজস্ব আয় ছিল প্রায় পাঁচ কোটি টাকা। হিসাবে গেলো এক বছরে ৪৬ কোটি টাকা রাজস্ব আয় বাড়াতে সক্ষম হয়েছেন কর্মকর্তারা।

শুধু রাজস্ব আয় বাড়েনি, সেই সঙ্গে বেড়েছে সেবার মান। গত ২০২১ সালে যেখানে ২৬ হাজার সেবাগ্রহীতার মাঝে পাসপোর্ট সরবরাহ করা হয়েছিল, সেখানে গেলো ২০২২ সালে ৭০ হাজার পাসপোর্ট সরবরাহ করা হয়েছে। এই হিসাবে গত এক বছরে এর আগের চেয়ে অতিরিক্ত ৪৪ হাজার সেবাগ্রহীতার হাতে পাসপোর্ট পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

সেবার মান বেড়ে যাওয়ায় বদলে গেছে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের চিরচেনা দৃশ্যপট। সহজেই মিলছে সব সেবা। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সেবাদান নিয়ে খুশি সেবাপ্রত্যাশী ও গ্রহীতারা। নানামুখী উদ্যোগ আর নজরদারিতে গতি পেয়েছে ডিজিটাল সেবাদান কার্যক্রম। পাসপোর্ট অফিসে আবেদন গ্রহণ থেকে শুরু করে ফিঙ্গার প্রিন্ট ও পাসপোর্ট ডেলিভারিসহ প্রতিটি স্তরে ফিরে এসেছে শৃঙ্খলা। খোলা হয়েছে হেল্প ডেস্কসহ বয়স্ক, অসুস্থ রোগীদের সেবাদানে মোবাইল এনরোলমেন্ট ইউনিট। 

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি কর্মদিবসে গণশুনানি কার্যক্রম সেবাপ্রত্যাশীদের কাছে কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতাকে নিশ্চিত করেছে। এজন্য কমেছে হয়রানি ও ভোগান্তি। মিলছে সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান।

স্থানীয় বাসিন্দা কামরুল হাসান বলেন, ‘নানা অব্যবস্থাপনা আর অরাজকতার মডেল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল ময়মনসিংহ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস। দালাল চক্রের ফাঁদ ডিঙিয়ে সহজে পাসপোর্ট পেতে পদে পদে হয়রানি ছিল নিয়মিত ঘটনা। নির্ধারিত ফি’র বাইরে দর কষাকষির বাড়তি টাকা আর ধরাধরি ছাড়া সহজে মিলতো না পাসপোর্ট। অফিসের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর অসহযোগিতা সেবাপ্রত্যাশীদের হয়রানিকে অসহনীয় করে তুলেছিল। প্রতিবাদ করেও মেলেনি প্রতিকার। অবশেষে শৃঙ্খলা ফিরেছে। সেবা এখন সহজে পাওয়া যায়।’

স্থানীয় পাসপোর্টপ্রত্যাশী আনোয়ারুল হাকিম বলেন, ‘নানা কারণে ময়মনসিংহ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের দুর্নীতি ও হয়রানি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছিল। পাসপোর্ট অফিসের নানা অভিযোগ ছিল সবার মুখে মুখে। তবে বর্তমান কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতায় এই চিত্র এখন বদলে গেছে অনেকটাই। সহজেই মিলছে প্রত্যাশিত সেবা।’

ময়মনসিংহ নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নুরুল আমিন কালাম বলেন, ‘ময়মনসিংহ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস নিয়ে একসময় নানা অভিযোগ থাকলেও এখন আর শোনা যায় না। যেকোনো মূল্যে এই সেবাদান কার্যক্রমকে ধরে রাখতে কর্তৃপক্ষকে আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানাই।’

আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ের সূত্রমতে, ই-পাসপোর্ট পেতে এখন প্রতিদিন গড়ে ৩০০-৩৫০ আবেদন জমা পড়ছে। অনলাইনে জমা দেওয়া এসব আবেদনের বিপরীতে প্রতিদিন গড়ে ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছে ৩০০-৪০০ ই-পাসপোর্ট। সরকার নির্ধারিত ফি দিয়ে অনলাইনে ই-পাসপোর্ট আবেদন করতে পারছেন পাসপোর্ট প্রত্যাশীরা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ে মিলছে পাসপোর্ট। কোনও আবেদনকারী চাইলে পাসপোর্ট অফিসের ওয়েবসাইট থেকে তার আবেদন কোন অবস্থায় আছে কিংবা হালনাগাদ তথ্য জেনে নিতে পারছেন। এছাড়া এসএমএসের মাধ্যমেও আবেদনকারীকে পাসপোর্ট সম্পর্কিত তথ্য জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর বাইরে পুলিশ ভেরিফিকেশন, এনআইডি ও এফিডেভিট সম্পর্কিত কোনও ভুল সংশোধনের ক্ষেত্রে অফিস প্রধানের গনশুনানিতে নিষ্পত্তি করায় ভোগান্তি ও হয়রানি কমেছে। আবেদনকারীদের সমস্যা সমাধানে প্রতিদিন গণশুনানি হচ্ছে। নানামুখী উদ্যোগে একদিকে গতি পেয়েছে সেবাদান কার্যক্রম অপরদিকে সরকারের রাজস্ব আয় বেড়ে গেছে কয়েকগুণ।

পাসপোর্ট সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যার সমাধানে আবেদনকারীকে সরাসরি উপপরিচালকের সঙ্গে কথা বলার আহ্বান জানিয়েছেন ময়মনসিংহ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালক ড. মো. হাফিজুর রহমান। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সবার আন্তরিক সহযোগিতার ফলেই সেবার মান বেড়েছে। সহজেই পাসপোর্ট প্রত্যাশীদের কাছে পাসপোর্ট সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। কাজের গতি ফিরে আসায় ২০২২ সালে এক লাখ পাঁচ হাজার ৬০৯ আবেদনের বিপরীতে ৭০ হাজার পাসপোর্ট সেবাগ্রহীতার কাছে সরবরাহ করা হয়েছে। ২০২২ সালে পাসপোর্ট থেকে ৫১ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে।’