বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সৌরভ হত্যা, চাচাসহ গ্রেফতার ৩

ময়মনসিংহে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ওমর ফারুক সৌরভ হত্যার অভিযোগে চাচাসহ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। সেই সঙ্গে লাশ বহনকারী প্রাইভেটকারটিও জব্দ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৪জুন) দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মাছুম আহামদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

ডিবি ও কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রথমে ইলিয়াছ আলীর শ্যালক আহাদুজ্জামান ফারুককে (৩০) ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে। পরে আহাদুজ্জামান ফারুকের তথ্যমতে সীমান্তবর্তী ধোবাউড়া থেকে সৌরভের চাচা অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ইলিয়াছ আলীকে গ্রেফতার করে এবং লাশ বহনকারী প্রাইভেটকার চালক আব্দুল হান্নান আকন্দকে (৬৫) গ্রেফতার ও  প্রাইভেটকারটিও জব্ধ করে।

পুলিশ সুপার মাছুম আহামদ জানান, চাচাতো বোন ইভা আক্তারকে গোপনে বিয়ে করার কারণেই ময়মনসিংহে বেসরকারি প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ওমর ফারুক সৌরভ হত্যাকাণ্ডের আসল কারণ। ময়মনসিংহের গোহাইলকান্দি চাচার বাসায় শনিবার রাতে ইলিয়াছ আলী ও শ্যালক আহাদুজ্জামান ফারুক প্রথমে তাকে ছুরিকাঘাত করে সৌরভকে হত্যা করে। পরে লাশ চার টুকরো করে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার মনতলা এলাকায় ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়কে সুতিয়া নদীর সেতুর নিচে ফেলে দেয়।

তিনি আরও জানান, গত রবিবার সকাল ১০টার দিকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ময়মনসিংহ সদর উপজেলার মনতলা এলাকায় ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়কে সুতিয়া নদীর সেতুর নিচ থেকে সৌরভের লাশ উদ্ধার করে।

উল্লেখ্য, গত ১২ মে ঢাকায় পরিবারের অমতে সৌরভ তার চাচাতো বোন ইভা আক্তারকে বিয়ে করেন। পরে তারা বাসায় বিয়ের কথা জানান। তবে দুই পরিবারের কেউ বিষয়টি মেনে নেননি। পরে অবশ্য বিয়ে মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয় এবং দুই জন নিজ নিজ বাসায় ফিরে যান। বিয়ের পরদিন মেয়ে ইভাকে কৌশলে ময়মনসিংহ নগরের বাসায় নিয়ে আসেন এবং ১৬ মে মেয়েকে কানাডায় পাঠিয়ে দেন। এ ঘটনায় নিহত সৌরভের বাবা ইউসুফ আলী বাদী হয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা করে।