বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে এর বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ১৩ ইন্টার্ন চিকিৎসকের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম স্থগিত করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মেডিক্যালের সাধারণ শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবির মুখে তাদের প্রশিক্ষণ স্থগিত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. গোলাম ফেরদৌস।
প্রজ্ঞাপন জারির বিষয়টি নিশ্চিত করে হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. জাকিউল ইসলাম বলেন, ‘হাসপাতালের ডিসিপ্লিনারি কমিটির সদস্যরা সভা করে ওই ১৩ জনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এজন্য প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এখন পরিস্থিতি শান্ত আছে।’
প্রশিক্ষণ স্থগিত হওয়া ইন্টার্ন চিকিৎসকরা হলেন- প্রতীক বিশ্বাস, লতিফুল কবীর কৌশিক, সুনীতি কুমার, শামীম রেজা, নাইমুর রশীদ, মেহেদী হাসান রোমান, এটিবি রুবেল, ফায়াদুর রহমান আকাশ, কামরুল হাসান, আবু রায়হান, সাখাওয়াত হোসেন সিফাত, অর্ণব কুন্ডু ও কাশফি তাবরিজ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে এর বিপক্ষে অবস্থান গ্রহণ, আন্দোলন বানচালের জন্য শিক্ষার্থী-চিকিৎসকদের হুমকি প্রদান, ভয়ভীতি দেখানো, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের অপরাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ, সাধারণ শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকদের শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে ওই ১৩ জনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম স্থগিতের দাবিতে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থী-চিকিৎসকরা।
হাসপাতালের পরিচালকের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ইন্টার্ন চিকিৎসকরা হাসপাতালের ডিসিপ্লিনারি কমিটির কাছে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত কিংবা সরাসরি উপস্থিত হয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবেন। মেডিক্যালের সাধারণ শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা ওই ১৩ জনকে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে আবেদন নিয়ে পরিচালকের কাছে আসেন। বুধবার দুপুরে খবর পেয়ে অভিযুক্ত ইন্টার্নরা দলবল নিয়ে হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে এসে হট্টগোল করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের হাতাহাতি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা হাসপাতালে আসেন। এমন পরিস্থিতিতে ওই ১৩ জনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম স্থগিত করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।