জুয়ার আসর বসানোয় কৃষকদল নেতাকে সব পদ থেকে বহিষ্কার

দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ভাংনামারী ইউনিয়ন কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ উত্তর জেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক আবুল বাসার আকন্দ। 

তিনি জানান, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কোনও কাজ বরদাশত করা হবে না। সংগঠনের গঠনতন্ত্র না মেনে জুয়ার আসর বসানোর কারণে কৃষকদল নেতা মোজাম্মেল হোসেনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এর আগে দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত ময়মনসিংহ উত্তর জেলা কৃষকদলের সদস্য খলিলুর রহমান তালুকদার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ভাংনামারী ইউনিয়ন কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেনকে সংগঠনের সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো। উত্তর জেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক আবুল বাসার আকন্দ এক জরুরি সভা শেষে এই সিদ্ধান্ত দেন। 

এর আগে ৭ জানুয়ারি রাতে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ভাবখালী এলাকার কাচারী বাজার ও গৌরীপুর উপজেলার চরভাবখালীর সীমানা সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদের তীর থেকে ওয়ান-টেন জুয়ার আসরে অভিযান চালিয়ে ৯ জনকে আটক করে যৌথ বাহিনী। এ সময় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা জুয়াড়িদের বহনকারী পাজেরো, প্রাইভেটকারসহ তিনটি বিলাসবহুল গাড়ি ও জুয়া সামগ্রী জব্দ করা হয়।  

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি সফিকুল ইসলাম খান জানান, গৌরীপুর উপজেলা তাঁতি লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মফিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী নদী সংলগ্ন একটি দুর্গম এলাকায় এই জুয়ার আসরটি চালিয়ে আসছিল। তবে গত ৫ আগস্টের পর মফিদুল ইসলাম ভারতে পালিয়ে যাওয়ায় বর্তমানে তার বড় ভাই গৌরীপুর উপজেলার ভাংনামারী ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন এই জুয়ার আসরটি পরিচালনা করে আসছিলেন। এ নিয়ে এলাকাবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একাধিকবার থানা পুলিশ অভিযান চালালেও বন্ধ হয়নি জুয়ার আসর।

সর্বশেষ গোপন সংবাদে যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে জুয়াড়িদের মধ্যে ৯ জনকে আটক করে সংশ্লিষ্ট মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। তারা পেশাদার জুয়াড়ি বলে জানা গেছে।

ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় জুয়ার আসরের মালিক মোজাম্মেলসহ ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ৯ জন আটক হলেও বাকিরা পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতার অভিযানে চলমান আছে।

এ বিষয়ে জানতে বহিষ্কৃত কৃষক দল নেতা মোজাম্মেল হোসেনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।