সড়কে ৭ মৃত্যু: ‘আমি রাজীব পরিবহন, আমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করুন’

ময়মনসিংহ নগরে যাত্রীবাহী বাসের চাপায় অটোরিকশার সাত যাত্রী নিহতের ঘটনায় চালকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার বিচার দাবিতে শনিবার জামালপুর শহরের ফৌজদারি এলাকায় রাজীব পরিবহনের ‘গায়েবানা জানাজা’ এবং প্রতীকী লাশ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় লোকজন।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলাটি করেছেন নিহতদের এক স্বজন। এতে বাসটির চালককে আসামি করা হয়েছে। মামলার বাদী মো. মোবারক আলী জামালপুর সদর উপজেলার দড়িহামিদপুর গ্রামের বাসিন্দা। দুর্ঘটনায় তিনি মা, ভাই, ভাতিজি ও নাতিকে হারিয়েছেন। এর আগে শুক্রবার দুপুরে ময়মনসিংহ নগরের আকুয়া গন্দ্রপা বাইপাস মহাসড়কে এ দুর্ঘটনায় সাত জন নিহত হন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে জামালপুরের দিকে যাওয়া রাজীব পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশায় থাকা সাত জনই ঘটনাস্থলে নিহত হন। তারা জামালপুর জেলার বাসিন্দা। এর মধ্যে একই পরিবারের চার জন হলেন জামালপুর সদর উপজেলার দড়িহামিদপুর গ্রামের রাশিদা বেগম (৮৫), তার ছেলে মোফাজ্জল হোসেন লেবু (৫৫), মোফাজ্জলের মেয়ে মর্জিনা আক্তার (২৫) ও মর্জিনার ছেলে মিনাল (৫)। অপর তিন জন হলেন- একই উপজেলার বীর গোবিন্দপুর গ্রামের অটোরিকশার চালক মো. সুজন আলী (৩৪) এবং বাদেচান্দি গ্রামের আকরাম আলী (৪৮) ও তার স্ত্রী মমতা বেগম (৩৯)।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই রিপন সরকার বলেন, ‘শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে সাত জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।’

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঢাকা-জামালপুর পথে চলাচলকারী রাজীব পরিবহনের বাসগুলো অতিরিক্ত গতি ও বেপরোয়া চলাচলের জন্য প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হয় মানুষ। এর মধ্যে শুক্রবার বাসচাপায় সাত জনের মৃত্যুর প্রতিবাদ ও বিচার দাবিতে রাত ১০টার দিকে জামালপুর শহরের ফৌজদারি এলাকায় রাজীব পরিবহনের ‘গায়েবানা জানাজা’ এবং প্রতীকী লাশ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রতীকী লাশের গায়ে লেখা ছিল ‘আমি রাজীব পরিবহন, আমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করুন।’

এর আগে সড়কে ধারাবাহিক দুর্ঘটনার প্রতিবাদে সেপ্টেম্বরে শুরুতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা রাজীব বাস বন্ধের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছিলেন।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি শিবিরুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্ঘটনার পরপরই বাস ও অটোরিকশাটি জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়। তবে বাস চালক ও সহযোগীরা পালিয়ে গেছে। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।’