বগুড়ার ‘শিয়া মসজিদে হামলাকারী’ আটক, বিপুল অস্ত্র উদ্ধার

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার কামারপাড়া গ্রামের এক বাড়িতে বৈঠককালে জেএমবির ইসাবা গ্রুপের (অপারেশন) সক্রিয় সদস্য ও ২০১৫ সালে শিবগঞ্জের শিয়া মসজিদে হামলায় ‘জড়িতদের’ অন্যতম আবদুল মোমিনকে (২৫) আটক করেছে ডিবি পুলিশ।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৩টায় তাকে আটক করে পুলিশ। বুধবার বিকেলে তাকে মাথায় হেলমেট পরিয়ে বুলেটপ্রুফ পোশাকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বুধবার দুপুরে পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আসাদুজ্জামান তার কার্যালয়ের সম্মেলন কেন্দ্রে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব জানান।

জব্দকৃত অস্ত্র এবং হেলমেট পরিহিতি জেএমবি সদস্য আব্দুল মোমিন

জানা যায়, অভিযান পরিচালনাকালে অন্য বৈঠককারীরা পালিয়ে গেলেও পালাতে পারেননি আবদুল মোমিন। তাকে আটকের পর ঘরে তল্লাশি চালিয়ে একটি বিদেশি স্বয়ংক্রিয় একে-২২ রাইফেল, ২৮ রাউন্ড তাজা গুলি, রাইফেলের তিনটি ম্যাগাজিন, একটি বিদেশি ৭.৬৫ ক্যালিবারের পিস্তল, ২৪ রাউন্ড তাজা গুলি ও একটি ম্যাগজিন উদ্ধার করে পুলিশ।

এসপি জানান, ২০১৫ সালের ২৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় শিবগঞ্জের চককানু গ্রামে শিয়া মসজিদে (মসজিদ-ই-আল মোস্তফা) হামলার ঘটনায় গ্রেফতার ছয় জঙ্গির মধ্যে ইয়াসিন আলী নামে একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে ওই শিয়া মসজিদে হামলায় জড়িত হিসেবে আরও অনেকের সঙ্গে আবদুল মোমিনের নামও প্রকাশ করেন ইয়াসিন আলী।

এসপির ধারণা, উদ্ধার হওয়া এসব আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে অত্যাধুনিক একে-২২ রাইফেল দিয়েই গত বছরের ২৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় বগুড়ার শিবগঞ্জের শিয়া মসজিদে গুলিবর্ষণ করা হয়। ওই ঘটনায় মসজিদের মুয়াজ্জিন মোয়াজ্জেম হোসেন(৭০) নিহত ও ইমামসহ আরও তিন মুসুল্লি গুরুতর আহত হন।

এসপি জানান, শিয়া মসজিদের ওই ঘটনার পর সংগ্রহ করা গুলির খোসা ও নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখার জন্য সিআইডির ঢাকাস্থ  ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হবে মঙ্গলবারের অভিযানে উদ্ধার করা এসব অস্ত্র ও গুলি। সেইসঙ্গে মোমিনকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করে অস্ত্রের উৎস, মসজিদে হামলা ও জেএমবির অন্যান্য পরিকল্পনার ব্যাপারে তথ্য বের করা হবে।

আরও পড়ুন: রাবির অভিনব প্রতীকী প্রতিবাদ (2)রাবিতে শিক্ষক হত্যার ঘটনায় অভিনব প্রতীকী প্রতিবাদ

তিনি আরও জানান, একে-২২ রাইফেল পুলিশ ব্যবহার করে না। সরকারের অন্য কোনও সংস্থা করে কিনা সে ব্যাপারে তার জানা নেই।

সংবাদ সম্মেলনে এসপি আটক আব্দুল মোমিনের সংক্ষিপ্ত পরিচয় প্রকাশ করেন। জানা যায়, বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার কামারপাড়া মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত মোজাহার আলীর ছেলে আবদুল মোমিন সরকারি আজিজুল হক কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। তিন থেকে চার বছর আগে তিনি জেএমবিতে যোগ দেন। অস্ত্র চালনায় পারদর্শী হওয়ায় তাকে নিষিদ্ধ এই জঙ্গি সংগঠনের ইসাবা গ্রুপের সদস্য করা হয়।

এসপি দাবি করেন, বগুড়াসহ এ অঞ্চলে জেএমবির সদস্যরা সংঘবদ্ধ হওয়া ও ঘাঁটি স্থাপনের চেষ্টা করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে ব্যর্থ হয়। তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহে ওয়ার্ডভিত্তিক কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে।

বিকেলে বগুড়া ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর আমিরুল ইসলাম জানান, অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় এসআই মজিবর রহমান শাজাহানপুর থানায় মামলা করেছেন।

আদালতের দোহাই দিয়ে আটক আবদুল মোমিনের সঙ্গে কথা বলতে বা ছবি তুলতে দেয়নি পুলিশ। 

/এইচকে/