ধানের বাম্পার ফলনের পরও দাম নিয়ে শঙ্কায় কৃষকরা

ধানের বাম্পার ফলন

চলতি ইরি-বোরো মৌসুমের ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন নওগাঁ জেলার কৃষক-কৃষাণিরা। যেন দম ফেলার ফুসরত নেই। কালবৈশাখী আসার আগে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কৃষকরা তাদের কষ্টের ফসল ঘরে তুলতে চান। এবার ইরি-বোরোর বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। কিন্তু বর্তমানে বাজারে ধানের দাম কম। নায্য মূল্য না পেলে ব্যাপক লোকসান হওয়ার শঙ্কায় আছেন তারা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১১ উপজেলায় প্রায় ১ লাখ ৮৯ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্য ছিল। তবে চাষ হয়েছে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪৬৩ হেক্টর জমিতে। এ থেকে ৭ লাখ ৭০ হাজার ২১০ মেট্রিকটন ধান উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলন হেক্টর প্রতি ৪.২০ মেট্রিক টন, বিঘা প্রতি ২১ মণ। 

অনুকূল পরিবেশ থাকায় ও কোনও প্রকার রোগবালাই ছাড়া এবার ইরি ধান-বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এই মৌসুমে কৃষকরা জিরাশাইল, ব্রি-ধান-২৮ ও ২৯, বিভিন্ন জাতের হাইব্রিড, খাটো-১০ ও পারিজা জাতের ধান চাষ করেছেন।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীকে জন কেরির ফোন

রানীনগর উপজেলার কালিগ্রামের মাখন হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, এবার প্রতি বিঘা জমির ভাড়াসহ ধান উৎপাদনে কৃষকদের খরচ হয়েছে প্রায় ১৭ হাজার টাকা। আর প্রতি বিঘায় শুধু ধান উৎপাদনে খরচ পড়েছে মণ প্রতি প্রায় ৭৫০ টাকা। কিন্তু বর্তমান বাজারে ধানের মূল্য ৫৫০ থেকে ৬২০ টাকা। যদি দাম বাড়ানো না হয় তাহলে ধান বিক্রি করে কৃষকদের লাভের পরিবর্তে লোকসান হবে।

মাঠে কৃষক

নওগাঁ সদর উপজেলার বর্ষাইল ইউপির মকমলপুর গ্রামের কৃষক শাহিন রহমান জানান, ইরি-বোরোর এই মৌসুমে তার ২৫ বিঘা জমিতে জিরাশাইল ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ইতিমধ্যে তিনি ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজ শুরু করেছেন। এ পর্যন্ত তিনি বিঘা প্রতি গড়ে ২২ মণ করে ধান পেয়েছেন। এখন শুধু ভালোভাবে পুরো ধান ঘরে নিয়ে আসার অপেক্ষায়। তবে কিছু জমিতে খাটো-১০ ও একই জাতের চারা বারবার রোপন করার কারণে বিছিন্নভাবে কিছু ধানে ব্লাস্ট রোগ আক্রমণ করলেও তা কৃষি অফিসারের পরামর্শ অনুযায়ী সঙ্গে সঙ্গে ওষুধ প্রয়োগ করায় তেমন কোনও ক্ষতি হয়নি।

আত্রাই উপজেলার বৈঠাখালি গ্রামের আলম হোসেন বলেন, ‘প্রায় ১৫ বিঘা জমিতে জিরাশাইলসহ বিভিন্ন জাতের হাইব্রিড ধান চাষ করেছি। ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু শঙ্কা হচ্ছে ধানের মূল্য নিয়ে। সরকার সরাসরি আমাদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করলে একটু হলেও লাভবান হব। বর্তমানে ধানের বাজারে দামের যে পতন তাতে কৃষকরা লোকসানের মুখে পড়বেন। তাই আমাদের মতো কৃষকদের কথা ভেবে সরকারের উচিত ধানের মূল্য বাড়ানো। তা না হলে কৃষকরা মাঠে মারা যাবেন।’

আরও পড়ুন: হত্যাএকমাসে ১১ হত্যা: রাজশাহী এখন আতঙ্কের নগরী

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সত্যব্রত সাহা বলেন, চলতি মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। জেলায় ধান কাটা চলছে। তবে শিলা বৃষ্টি আর ঝড়ের কারণে কিছু কিছু জমির ধান পড়ে গেছে। আর পড়ে যাওয়া এই ধান প্রথম দিকে ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হলেও যথা সময়ে ওষুধ প্রয়োগে ফলনে তেমন কোনও ক্ষতি হয়নি।

 

/এসটি/