জানা যায়, ২০০৪ সালের ২৪ ডিসেম্বরে অধ্যাপক ইউনুস, ২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অধ্যাপক তাহের ও ২০১৪ সালের নভেম্বরে অধ্যাপক শফিউল ইসলাম দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হন। এরপর বিভিন্ন সময় উপাচার্যসহ অনেক শিক্ষককে অজ্ঞাত নম্বর থেকে আবার কাউকে চিঠি দিয়ে জঙ্গি সংগঠনের নামে হুমকি দেওয়া হয়েছে। অনেককে চাঁদা চেয়েও হুমকি দেওয়া হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হুমকিদাতাদের কোনও হদিস পাননি।
গত বছরের ৩০ নভেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরে উপমহাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক, উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপিসহ রাজশাহীর আট বিশিষ্টজনকে হত্যার হুমকি দিয়ে চিঠি পাঠায় আনসার আল ইসলাম। সংগঠনটির প্যাডে পাঠানো ওই চিঠির নিচে মুফতি আবদুল্লাহ আশরাফের নাম উল্লেখ করা হয়। এসব ঘটনায় নগরীর মতিহার ও বোয়ালিয়া থানায় পৃথক জিডি করা হলেও কোনও অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ময়েজুল ইসলাম, একই বিভাগের অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক বিধান চন্দ্র দাস, ভেটেরিনারি সায়েন্সের অধ্যাপক কামরুজ্জামান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাশেম, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের প্রশাসক অধ্যাপক শফিকুন্নবী সামাদী, রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক আকতার ফারুক ও অধ্যাপক আজাহার আলী, মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক এ কে এম গোলাম মালেক, অধ্যাপক শারমিন হামিদসহ প্রায় অর্ধ-শতাধিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক বিভিন্ন সময় হত্যার হুমকি পেয়ে থানায় জিডি করেছেন। এছাড়া আরও অনেক শিক্ষক হুমকি পেলেও জিডি করেননি।
ইংরেজি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে বিভাগের বেশ কয়েকজন শিক্ষককে ক্লাসে নাস্তিকতা চর্চা করার অভিযোগ এনে উড়ো চিঠির হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখানে কোনও শিক্ষককের নাম উল্লেখ করা হয়নি।
অন্যদিকে, গত ৩৫ বছরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মোট ৩৭টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে। যার মধ্যে অন্তত ৩০ জন শিক্ষার্থীকে হত্যা করা হয়েছে। এ ধরণের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের তৃতীয় বর্ষের নাজমুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি শিক্ষক হত্যার ঘটনার পর বাবা-মা অনেক চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। এমনকি বাইরে আসলে তারা বারবার দ্রুত বাড়ি ফেরা তাগাদা দেন।
অর্থনীতি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আবু সুফিয়ান বলেন, শিক্ষক খুনের ঘটনায় বিচার না হওয়ায় দিন দিন আতঙ্ক বাড়ছে। তাই তারা দ্রুত এসব হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
হুমকিপ্রাপ্ত রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক আখতার ফারুক বলেন, ‘২০০৪ সালে বাংলা ভাইয়ের সময় একবার হুমকি পেয়েছিলাম আর গত বছর একবার। এ বিষয়গুলো উদ্বেগজনক। আসলে ঘটনাগুলো কোন দিকে যাচ্ছে বুঝতে পারছি না।’
হুমকিপ্রাপ্ত অপর শিক্ষক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সভাপতি আবুল কাশেম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘কয়েকবার হুমকি পাওয়ার পর একবার জিডি করেছিলাম। আমি ভিকটিম হিসাবে এটাকে সিরিয়াসলি নেই, কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বহিনী যখন এটাকে গুরুত্ব না দেয় তখন এটা পীড়াদায়ক। দু-চারজনকে যদি বের করে জনসম্মুখে হাজির করে শাস্তির ব্যবস্থা করতো, তাহলে আমরা অন্তত মানসিকভাবে স্বস্তি পেতাম।’
/বিটি/এসএনএইচ/