রাবিতে ছাত্রী-কমনরুমের বৈদ্যুতিক সকেটের সংযোগ বিচ্ছিন্ন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মন্নুজান হলের কমনরুমের বৈদ্যুতিক সকেটের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। রবিবার (২৯ মে) এই বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে প্রশাসন। এতে ওই ছাত্রী হলের কমনরুমের শিক্ষার্থীরা চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন বলে জানা যায়। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলেও তারা জানান।

বৈদ্যুতিক সকেট বন্ধের ঘোষণা

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা মিজানুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা লিখিত অভিযোগ করলে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

এ ব্যাপারে প্রশাসন থেকে গত মাসে (৩০ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘ডরমিটরিতে অবস্থানরত ছাত্রীরা রাইস কুকার, ওয়াটার হিটার ইত্যাদি বৈদ্যুতিক জিনিস ব্যবহার করছে। যার ফলে বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনা ঘটছে। এই দুর্ঘটনা এড়াতে  হল প্রশাসন বৈদ্যুতিক সকেট বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে ছাত্রীরা ফোন চার্জ দেওয়ার জন্য রিডিং রুম ব্যবহার করতে পারবে।’

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, কমনরুমে এমনিতেই গাদাগাদি করে থাকতে হয়। তার ওপর বৈদ্যুতিক সকেটগুলোর সংযোগ বন্ধ করা হয়েছে। ফলে ফোন-ল্যাপটপে চার্জ, টেবিল ল্যাম্প ব্যবহার, রান্না করা, পড়াশোনাসহ বিভিন্ন কাজ করতে অসুবিধা হচ্ছে। এদিকে রিডিং রুমে নেই পর্যাপ্ত সকেট। ফলে চার্জ দিতে হলে লাইনে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীদের চার্জ দিতে হবে।

মুন্নুজান হলের দুর্দশাগ্রস্ত ছাত্রী কমনরুমের সাধারণ দৃশ্য

অন্য এক শিক্ষার্থীর বলেন, ‘রাত ১২টার পর কমনরুমের লাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে শিক্ষার্থীরা টেবিল ল্যাম্প দিয়ে পড়াশোনা করে। কিন্তু এখন সকেটগুলো বন্ধ করে দেওয়ায় টেবিল ল্যাম্প চালাতে পারছি না। আর পড়াশোনার জন্য রিডিং রুম ব্যবহার করতে বলা হলেও সেখানে জায়গার কম।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুকি এক ছাত্রী বলেন, ‘এদিকে ছুটি শেষে হলের ডাইনিং এখনও খোলেনি, সকেটের সংযোগ বন্ধ করায়, রান্না করাও সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া অন্য হলগুলোতে রান্নার জন্য আলাদা রুম থাকলেও আমাদের নেই।’

এ বিষয়ে মন্নুজান হলের প্রাধ্যক্ষ ড. তানজিমা জোহরা হাবিব বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে সকেটের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছি। কারণ ভারী বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহারের ফলে বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনা ঘটে। ধীরে ধীরে সবগুলো গণরুমেই সকেটের বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে।’

আরও পড়ুন: নির্বাচনি সহিংসতার শিকার ঘোড়া!

/এনএস/এইচকে/