এক আদিবাসী নারী ধর্ষণ মামলায় বাদীকে আসামিপক্ষ হুমকি দেওয়ায় বিষয়টি রাষ্ট্রপক্ষ আদালতের গোচরীভূত করলে বিজ্ঞ বিচারক এ বিষয়ে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য এ আদেশ দেন।
জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের আতাহার এলাকার মৃত দেলশাদ কটার ছেলে আরিফুল ইসলাম ও তার অপর সহযোগী মোস্তফার ছেলে জিয়ারুল গত ২৯ নভেম্বর, ২০১৪ তারিখে রাত্রি প্রায় সাড়ে ১১টায় একই এলাকার জনৈক এক আদিবাসী নারীর শয়নকক্ষে প্রবেশ করে তাকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে পাশ্ববর্তী জনৈক আরমানের আমবাগানে ধর্ষণ করেন আরিফুল।
এ সময় ওই আদিবাসী নারীর চিৎকারে তার আত্মীয়-স্বজনরা এগিয়ে আসলে তারা পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ধর্ষিতা নিজেই বাদী হয়ে গত ১ ডিসেম্বর ২০১৪ তারিখে নবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
এদিকে, আসামিরা জামিন পেয়ে বাদী ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করলে বাদী ও তার পরিবার এলাকা ত্যাগ করে আত্মগোপন করেন।
এমনকি গত ২২ মে ২০১৬ আদালত কৃর্তক ধায্যকৃত দিনেও বাদী উপস্থিত হতে পারেননি।
পরে রাষ্ট্রপক্ষের কৌশলী বাদীর আদালতে ধার্য্য দিনে হাজিরা না দেওয়ার বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে জানতে পারেন, আসামিপক্ষের হুমকির প্রেক্ষিতে বাদী ও তার পরিবার এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।
বিষয়টি রাষ্ট্রপক্ষ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতে উপস্থাপন করলে গত ৬ জুন বিজ্ঞ বিচারক এ বিষয়ে সরেজমিন তদন্ত পূর্বক একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আগামী ২২ জুনের মধ্যে জমা দেওয়ার জন্য পুলিশ সুপারের মাধ্যমে নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মাযহারুল ইসলাম জানান, আদালতের নির্দেশনার কপি হস্তগত হয়নি। তবে কপি পেলে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আরও পড়ুন: সন্ত্রাসী দেখামাত্র প্রতিরোধ
/এইচকে/