দেশে সৌরবিদ্যুৎ চালিত প্রথম পাম্প রাজশাহীতে, সারাবছরই চাষাবাদের আশা

সৌরবিদ্যুৎ চালিত পাম্পরাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় চারটি সৌর বিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প স্থাপন করেছে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)। এর ফলে সারা বছর ধরেই ওই এলাকার প্রায় দুই হাজার বিঘা জমিতে সারাবছর ধরে চাষাবাদ সম্ভব হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ। এই পাম্পের ফলে বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে এবং অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে এ এলাকার কৃষক।

বিএমডিএ গোদাগাড়ী জোন-১ সূত্রে জানা যায়, কৃষি উন্নয়নে উপজেলার বরেন্দ্র এলাকার জগপুর ও বিড়ইলের সরমংলা খাড়িতে এবং গোপালপুর ও পলদেবপুর এলাকার পুকুরে চারটি সৌর বিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। খাড়ি ও পুকুরে পাইপ লাইনের মাধ্যমে পদ্মা নদী থেকে পানি নিয়ে আসা হয়। এরপর পুকুর-খাড়ি থেকে এলএলপি পাম্পের সাহায্যে পানি উঠানো হয়। আগের এলএলপি পাম্প বিদ্যুৎচালিত হলেও বর্তমানের এই পাম্পগুলো চালানো হবে সৌরবিদ্যুতের সাহায্যে।

বিএমডিএ সূত্র জানায়, এক একটা সৌরবিদ্যুৎ চালিত এলএলপি পাম্প স্থাপনে খরচ হয়েছে ২৫ লাখ টাকা। চলতি মৌসুমেই রোপা-আমন ধানের চাষে এই পাম্প থেকে সেচ পাবে কৃষক।

বিএমডিএ গোদাগাড়ী জোন-১ এর সহকারী প্রকৌশলী জিল্লুল বারী জানান, সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্পগুলি বিএমডিএ অফিস থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। কম্পিউটার অনলাইনে সেচ পাম্প বন্ধ ও চালু করা যাবে। এছাড়া গতি কমানো-বাড়ানোও যাবে অনলাইন পদ্ধতির মাধ্যমে।

জিল্লুল বারী জানান, সৌরবিদ্যুৎ চালিত প্রতিটি সেচ পাম্পে সর্বোচ্চ ১৫ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। তবে সূর্যের আলো কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের পাওয়ারও কমে আসবে। তখন অফিস থেকেই অনলাইন পদ্ধতির মাধ্যমে সেচ পাম্পের পাওয়ার কমিয়ে দেওয়া যাবে। রাতের বেলায় সৌর বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প না চললেও দিনের বেলায় সূর্যের আলো থাকা পর্যন্ত সেচ পাম্প চালু রাখা যাবে। সৌর বিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্পগুলি ৫০ বছরের বেশি স্থায়ীত্ব হওয়ায় অকেজো হওয়ার কোনও আশঙ্কা নেই বলেও জানান তিনি।সৌরবিদ্যুৎ চালিত পাম্প

প্রকৌশলী জিল্লুল বারী আরও জানান, সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্পগুলো অত্যাধুনিক হওয়ায় প্রতিটি পাম্পের অধীনে ৫০০ বিঘা জমিতে সেচ দেওয়া সহজেই সম্ভব হবে। ভূ-পৃষ্ঠের ওপরের উৎস থেকে পানি সেচের কাজে সৌরবিদ্যুৎ চালিত পাম্প বাংলাদেশে এই প্রথম স্থাপন করা হলো।

গোদাগাড়ী উপজেলার জগপুরের কৃষক আকতার হোসেন বলেন, তার তিন বিঘা জমি রয়েছে জগপুর মৌজায়। শুধু আমন রোপা চাষ করা গেলেও বাকি সময় জমি পতিত থাকে। সৌর বিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প স্থাপন করায় সারা বছর ধরে যদি ফসল চাষ করা সম্ভব হয় তাহলে তা অবশ্যই আনন্দের। 

বিড়ইলের কৃষক মোশারফ হোসেন বলেন, অনেক দূর থেকে গভীর নলকূপের মাধ্যমে জমিতে সেচ দিয়ে ১০ বিঘা জমিতে ফসল চাষ করায় উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছিল। এখন কম খরচে ফসল চাষ করে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছি।

গোদাগাড়ী কৃষি কর্মকর্তা তৌফিকুর রহমান বলেন, বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করতে হয় না বলে সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্পে সঠিক সময়ে ফসলে সেচ পাওয়া যাবে। এতে করে খরচ ও হয়রানি দুটোই কমবে। সঠিক সময়ে সেচ পাওয়ায় ফসলের উৎপাদনও ভাল হবে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন- 

মৌলভীবাজারে অবাধে চলছে পাহাড়-টিলা কাটা
দোয়েল ‘ল্যাপটপ’ ডানা ঝাপটাতে ঝাপটাতেই শেষ!

/এফএস/