রাবির চিকিৎসা কেন্দ্র: জ্বর-সর্দির বেশি কিছু হলেই রামেকে ট্রান্সফার!



চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি, অ্যাম্বুলেন্সের অপব্যবহার, নিম্নমানের সেবাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্র নিয়ে। চিকিৎসা কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষ স্বয়ং তাদের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেছেন। রাবি-চিকিৎসা-কেন্দ্রডাক্তার ও স্টাফ সংখ্যা বাড়ানো গেলে এসব সমস্যা থাকবে না বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, স্টাফ-চিকিৎসকের কোনও স্বল্পতা নেই। দায়িত্বে গাফিলতির কারণেই সেবার মান বাড়ছে না।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে দুপুরের পরে জরুরি সেবা নিতে গেলে বেশিরভাগ সময় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসাপাতালে ট্রান্সফার করা হয়। এমনকি জ্বর-সর্দির বাহিরে হলেই রোগ গুরুতর না হলেও ট্রান্সফার করে দায় এড়ানোর চেষ্টা করা হয়। অনেক সময় সকালেও চিকিৎসকরা সময় মতো আসেন না। এছাড়া জরুরি প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বহন করার জন্য যে অ্যাম্বুলেন্সগুলো রয়েছে, সেগুলো অনেক সময় পাওয়া যায় না। এ অ্যাম্বুলেন্সগুলো অনেক সময় দলীয় ও ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হয় বলেও শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টার সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা সেবার জন্য ২৪ জন চিকিৎসক রয়েছেন। এদের মধ্যে দুইজন শিক্ষা ছুটিতে এবং অতিরিক্ত প্রধান চিকিৎসকসহ তিনটি পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া এখানে কোনও বিশেষজ্ঞও নেই। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর ২টা, ২টা থেকে ৮টা ও রাত ৮টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত তিনটি শিফটে চিকিৎসকদের সেবা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে। কিন্তু বিকেল ও রাতের শিফটে একজনের বেশি চিকিৎসক থাকেন না অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।
এছাড়া এখানে ইসিজি, ডিজিটাল এক্স-রে, প্যাথোলজি সেবা রয়েছে। কিন্তু বিকল্প কর্মকর্তা না থাকায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীকে অনেক সময় এসব সেবা থেকে বঞ্চিত থাকতে হয়।
প্রধান চিকিৎসক ডা. মো. তবিবুর রহমান শেখ বৃহস্পতিবার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, অনেক সময় কর্মকর্তারা ছুটিতে থাকে। এসময় বিকল্প কর্মকর্তা না থাকায় এসব যন্ত্রপাতির ব্যবহার সুনিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

চিকিৎসকদের দেরিতে আসার বিষয় স্বীকার করে ডা. তবিবুর রহমান বলেন, চিকিৎসকদের দেরিতে আসার ঘটনা নতুন নয়, তবে বর্তমানে অনেক কমে গেছে দাবি করেন তিনি। খুব তাড়াতাড়ি অ্যাটেনডেন্ট মনিটরিং মেশিন বসানো হবে। তখন সমস্যা থাকবে না বলে জানান তিনি।

এদিকে অ্যাম্বুলেন্সের অপব্যবহার বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. তবিবুর রহমান বলেন, ‘যে কেউ কল করলেই অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়। এর মধ্যে কে দলীয় বা ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের জন্য ডাকে তা আমরা বুঝতে পারি না।’

তবে প্রধান চিকিৎসক ডা. তবিবুর রহমানের অভিযোগ অস্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান শনিবার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘স্টাফ-চিকিৎসকের কোনও স্বল্পতা নেই। বর্তমান প্রশাসন দায়িত্বে আসার পর পর্যাপ্ত পরিমাণ স্টাফ-চিকিৎসক নিয়োগ দিয়েছে। তাদের দায়িত্বে গাফিলতির কারণে এ সমস্যাগুলো হচ্ছে।’

/এইচকে/

আরও পড়ুন: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সরব ছাত্রলীগ, কয়েকটিতে কমিটি ঘোষণা