নাম ও পোশাক বদলেও রক্ষা হলো না রাজশাহী পিস স্কুলের

পিস স্কুল রাজশাহী ক্যাম্পাস
স্কুলের নাম ও শিক্ষার্থীদের পোশাক বদলানোর পরেও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে রাজশাহী পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজ। রবিবার বিকালে সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী বন্ধ করে দেওয়া হয় অনুমোদনহীন বদলে যাওয়া লিজেন্ড একাডেমির কার্যক্রম।

সারাদেশে পিস স্কুলগুলো বন্ধ করে দেওয়ার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে গত ২ আগস্ট নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু এর আগেই রাজশাহীর পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজ নাম ও শিক্ষার্থীদের পোশাক বদলে লিজেন্ড একাডেমি হিসেবে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছিল।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতেখায়ের আলম বলেন, ‘রাজপাড়া থানার অধীনে নগরীর তেরখাদিয়ায় অবস্থিত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড রবিবার সন্ধ্যায় সরানো হয়েছে।’ 

বন্ধ হয়ে যাওয়া এই প্রতিষ্ঠানের অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের এখন কী হবে-এমন প্রশ্নের জবাবে সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতে খায়ের আলম বলেন, সরকারের নির্দেশে স্কুলটি বন্ধ করা হয়েছে। আর প্লে থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত স্কুলটির শিক্ষা কার্যক্রম। নগরীতে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাই অসুবিধা হবে না।

তিনি জানান, স্কুলের নাম পরিবর্তন করা হলেও এ স্কুল অনুমোদনের কোনও কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। তাই স্কুল খোলা পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পিস স্কুলের নাম পাল্টে করা হয়েছে লিজেন্ট একাডেমিএদিকে, দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে রাজশাহী পিস স্কুল নিয়ে খবর প্রকাশিত হয়। গত ১৪ জুলাই পিস স্কুলটির নাম পাল্টে ‘লিজেন্ড একাডেমি’ করে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল। পাশাপাশি পিস স্কুলের ড্রেসকোড- ছাত্রদের মাথার টুপি ও ছাত্রীদের হিজাব পরাও বন্ধ করে কর্তৃপক্ষ।

এই প্রতিষ্ঠানে প্লে থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হয়। মোট শিক্ষার্থী ছিল ২৬০ জন। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফি নেওয়া হয় ১৩০০ টাকা করে। আর প্রতিষ্ঠানে মোট স্টাফ ছিল ৫০ জন। এর মধ্যে শিক্ষক ছিলেন ২৫ জন।

ডা. মুর্শেদ জামান মিয়াকে চেয়ারম্যান ও অধ্যক্ষ এম আলাউদ্দিনকে সদস্য সচিব করে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছিলেন জহুরুল ইসলাম ফারুক, গোলাম কাজেম আলী আহমেদ, শহিদুল ইসলাম ও মুরাদ হোসেন।

/বিটি/