নিভৃতে বিদায় নিলেন সেই দাপুটে সিভিল সার্জন!

সিভিল-সার্জন-শহিদ-সাদিকুল-ইসলামসিরাজগঞ্জ থেকে অনেকটা নিভৃতে বিদায় নিলেন সেই দাপুটে সিভিল সার্জন ডা. শহিদ মো. সাদিকুল ইসলাম। গত প্রায় ৬ মাস আগে পাবনা জেলা থেকে বদলি হয়ে সিরাজগঞ্জে আসেন তিনি। এসেই তিনি এই করবেন, ওই করবেন, স্বাস্থ্য বিভাগকে ঢেলে সাজাবেন, আরও অনেক কিছু বলে কথার ফুলঝুড়ি তোলেন।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সিরাজগঞ্জ এসেই তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, সিরাজগঞ্জের আড়াই শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালসহ জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের সব ফাঁকিবাজ চিকিৎসকদের তিনি আঙুলেরে মতো সোজা করে ফেলবেন। কিন্তু, সেটা শেষ পর্যন্ত হলো না। নিজেই সেসব ফাঁকিবাজ চিকিৎসকদের কাছে পরাস্ত হলেন।
অন্যদিকে,দায়িত্ব অবহেলা ও কর্মক্ষেত্রে ফাঁকি দেওয়া চিকিৎসক ও স্টাফদের শোকজ করার পর রহস্যজনক কারণে নিজেই আবার তাদের প্রতি অতিশয় সদয়ও হতেন। স্বাস্থ্য বিভাগ ঠিকঠাক করতে না পারলেও নিজের চাটুকার কথার দিয়ে শেষপর্যন্ত নানা কায়দায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর স্নেহভাজন হন তিনি। পদোন্নতির বৈধ সময়সীমা না হলেও বিশেষ তদবিরের মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদফতরের এমবিডিসি শাখার উপপরিচালক হিসেবে নিজের পদোন্নতিটাও এরই মধ্যে বাগিয়ে নেন ডা. শহিদ মো. সাদিকুল ইসলাম। 

এমন কী সিরাজগঞ্জ খেকে বিদায় নেওয়ার আগে সিভিল সার্জন হিসেবে ১০ দিনের সরকারি সফরে থাইল্যান্ডসহ বেশ কয়েকটি দেশ সফরের বিশাল সুযোগটাও লুফে নেন তিনি। সরকারি সফর শেষে বিমানযোগে গত ১ আগস্ট সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ঢাকায় ফিরে আসেন তিনি। এরপর ওইদিনই তিনি স্বাস্থ্য অধিদফতরের এমবিডিসি শাখার উপপরিচালকে পদে যোগদান শেষে অপরাহ্নেই সিরাজগঞ্জ এসে নবাগত সিভিল সার্জন ডা. শেখ মনজুর রহমানের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। আবার বিকেলে বগুড়াও যান। এতকিছু তিনি এক বেলাতেই মাত্র পাঁচ ঘণ্টায় সেরে ফেলেন।

বিদায়ী প্রক্রিয়া সবকিছুই তার মনমতোই হয়েছে। কিন্তু সবকিছুই হয়েছে কাগজে-কলমে। কিন্তু কেন এই লুকোচুরি? সিরাজগঞ্জে যোগদান করেই তিনি বলেছিলেন, এ করবেন! ওই করবেন!  অথচ তাকেই বিড়ালের মতো সিরাজগঞ্জ থেকে নিভৃতে চলে যেতে হলো। তার বিদায় অনুষ্ঠানটাও ঠিকমতো হলো। কাগজে-কলমে সেরে এভাবে নিভৃতে চলে যাওয়ার বিষয়টি শনিবার ফাঁস হওয়ায় শুধু স্বাস্থ্য বিভাগেই নয়, শহরবাসীর আলোচনাতেও আসে তার বিষয়ে নানান প্রশ্ন।

এসব প্রসঙ্গে মোবাইল ফোনে বিদায়ী সিভিল সার্জন ডা. শহিদ মো. সাদিকুল ইসলাম শনিবার সন্ধ্যায় বলেন, এত কিছু কীভাবে সারলাম, তা আল্লাহতালাই ভালো জানেন। আপনাদের কলম আছে, যা ভালো হয় লিখতে পারেন!

আরও পড়ুন: বাগমারায় ‘বন্ধুকযুদ্ধে’ নিহত নাঈম জেএমবির শীর্ষ নেতা
/এবি/আপ-এআর/