নওগাঁ থেকে অপহৃত শিশু বগুড়ায় উদ্ধার, ‌‘দম্পতি’ গ্রেফতার

বগুড়া থেকে উদ্ধার হওয়ার শিশু সাগর ও অপহরণকারী চক্রের সদস্য সুজন ও রাবেয়ানওগাঁর বালুডাঙ্গা গ্রাম থেকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত সাগর রাসিব (৯) নামে এক শিশুকে অপহরণের ৫ দিন পর শুক্রবার বিকালে বগুড়ার ধুনটের শহড়াবাড়ি ঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার হয়েছে।
শিশুটিকে উদ্ধারের পর অপহরণকারী চক্রের দুই সদস্য কথিত দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।  নওগাঁ সদর থানার ওসি তরিকুল ইসলাম ও বগুড়ার ধুনট থানার এসআই খোকন কুন্ডু বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলো জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার জাঙ্গালিয়া গ্রামের মেজবাউল ইসলামের ছেলে সুজন মিয়া (৩০) ও তার কথিত স্ত্রী রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার চর দৌলতপুর গ্রামের আজিজ মিয়ার মেয়ে রাবেয়া খাতুন (১৮)।
এর আগে পুলিশ সুজনের স্ত্রী পরিচয় দানকারী রহিমা খাতুন (২৫) নামে একজনকে গ্রেফতার করে।

নওগাঁ সদর থানার ওসি তরিকুল ইসলাম ও বগুড়ার ধুনট থানার এসআই খোকন কুন্ডু জানান, সুজন মিয়া, রহিমা খাতুন ও রাবেয়া খাতুন একটি অহপরণকারী চক্রের সদস্য। এরা বিভিন্ন এলাকায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাসা ভাড়া নেয়। এরপর বাচ্চা অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করে থাকে।

সুজন মিয়া ও রহিমা খাতুন গত প্রায় দেড় মাস আগে নওগাঁর বালুডাঙ্গা গ্রামে জনৈক ব্যক্তির বাড়িতে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে ভাড়া নেয়। সেখান থেকে গত ১০ সেপ্টেম্বর কৃষক পিন্টু মিয়ার বাড়ি ভাড়া নেয়। তারা পিন্টু, তার স্ত্রী ও ছেলে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র সাগর রাসিবের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলে।

১২ সেপ্টেম্বর সুজন ঈদের জুতা কিনে দেনার নামে শিশু সাগর রাসিবকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর শিশুর বাবা পিন্টু মিয়ার কাছে মুক্তিপণ হিসেবে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। মুক্তিপণ না দিলে শিশুটিকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

স্থানীয়রা সুজনের কথিত স্ত্রী রহিমা খাতুনকে আটক করে পুলিশে দেয়। পিন্টু মিয়া ওইদিন নওগাঁ সদর থানায় অপহরণ মামলা করেন।

এদিকে শুক্রবার বিকাল ৩টার দিকে গোপনে খবর পেয়ে নওগাঁ সদর থানা ও বগুড়ার ধুনট থানার পুলিশ ধুনটের শহরাবাড়ি ঘাট এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে শিশু সাগর রাসিবকে উদ্ধার করে। গ্রেফতার করা হয় অপহরণকারী চক্রের সদস্য সুজন মিয়া ও রাবেয়া খাতুনকে।

রাবেয়া খাতুন জানায়, সুজন তাকে টাকার বিনিময়ে ভাড়া করে এবং স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিতে বলেছিল। এর বেশি সে কিছুই জানে না।

পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারনা, অপহরণকারীরা ওই শিশুটিকে নিয়ে যমুনা নদীপথে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করেছিল। বিকালে এ খবর পাঠানোর সময় দুই আসামি ভিকটিমকে নওগাঁয় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে জানা যায়।

/এইচকে/

পড়ুন: নাটোরে নৌকাডুবি: অর্থ সহায়তা পেলো নিহতদের পরিবার