তবে চামড়া ব্যবসায়ীরা জানান, তারা সরকার ও টেনারি মালিকদের বেঁধে দেওয়া দামেই চামড়া কিনছেন।
প্রতি বছর ঈদুল আজহার দিনে কোরবানির পশুর চামড়ার বিশাল বাজার বসে নওগাঁয়। শহরের বিভিন্ন এলাকা ও গ্রামাঞ্চল থেকে চামড়া কিনে এনে বিক্রির জন্য ভিড় করেন মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা। কিন্তু গত বছরের তুলনায় এবার চামড়ার দাম ট্যানারি মালিকরা কম নির্ধারণ করায় নওগাঁয় চামড়া কিনে লোকশানের মুখে পড়েছে মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা।
মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা এনামূল হক জানান, গ্রামের বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রতি গরুর চামড়া ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা করে কিনে এনে নওগাঁ শহরে বিক্রি করতে হচ্ছে ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা, খাসির চামড়া ১৫০ থেকে ২০০ টাকা করে কিনে এনে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘নওগাঁর চামড়া ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করার কারণেই আমাদের এই অবস্থা।’
মৌসুমি ব্যবসায়ী আশরাফ আলী বলেন, ‘চামড়া বেশি দামে না কিনলে ভারতে পাচার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছি আমরা।’
জেলা চামড়া ব্যবসায়ী মালিক গ্রুপের সভাপতি মোমতাজ উদ্দীন দাবি করেন, তারা কোনও সিন্ডিকেট করে চামড়া কিনছেন না। তারা উন্মুক্ত বাজারে চামড়া কিনছেন। তারা সরকার ও ট্যানারি মালিকদের বেঁধে দেওয়া দামেই চামড়া কিনছেন।
তিনি বলেন, ‘ভারতের বাজারে চামড়ার দাম বেশি আর ট্যানারি মালিকদের বেঁধে দেওয়া দাম কম হওয়ায় পাচার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাচার যাতে না হয় সেজন্য সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
নওগাঁর ৪৩ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল জাহিদ হাসান বলেন, ‘কোরবানির পশুর চামড়া থেকে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়। চামড়া পাচার যেন না হয় সেলক্ষ্যে ইতোমধ্যে শিল্পমন্ত্রীর নির্দেশে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সীমান্তে ৮ কিলোমিটারের মধ্যে কোনও মজুদ বা ক্রয় বিক্রয় না হয় সেজন্য বিজিবি সর্তক রয়েছে। সীমান্তবর্তী সবগুলো রুটে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।’
আরও পড়ুন-
সেলফি তুলতে গিয়ে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত!
জামায়াতের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে তুরস্কের
/এফএস/