চারঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারণ চন্দ্র বর্মণ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, রবিবার গভীর রাতে ১৩-১৪ জনের একটি ডাকাতদল উপজেলার তালতলা এলাকার ‘জামান সটিং অ্যান্ড ডাল মিলে’ ডাকাতি করে। তারা দুটি ট্রাকে মশুরের ডাল ভর্তি করে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ সড়কের বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসায়। পরে সোমবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার হলিদাগাছি এলাকা থেকে জনতার সহায়তায় চার ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার করা হয় ডালের বস্তাভর্তি একটি ট্রাক। আর জব্দ করা হয় ডাকাতদের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল।
তিনি আরও জানান, ডাকাতির ঘটনায় বাকি ডাকাতদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ডালভর্তি আরেকটি ট্রাক উদ্ধার করতেও পুলিশ কাজ শুরু করেছে।
এদিকে সোমবার সকাল ১১টার দিকে পুঠিয়ার বানেশ্বরে ডাল মিল মালিকরা (ব্যবসায়ীরা) ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেন। এসময় তারা একের পর এক ডাল মিলে ডাকাতি ও চুরির ঘটনার প্রতিবাদ করেন। তারা এসব বন্ধ না হলে কঠোর আন্দোলনেরও হুমকি দেন। পরে পুঠিয়া সার্কেল অফিসার ও পুঠিয়া থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে ব্যবসায়ীদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেন।
পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে ডাল মিলে নিরাপত্তা জোরদারেরও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ডাল মিলে ঘটে যাওয়া সব ডাকাতি ও চুরির ঘটনা তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও আশ্বাস দেওয়া হয়।
পুঠিয়ার বানেশ্বর ডাল ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ওবাইদুর রহমান বলেন, একের পর এক ডাল মিলে ডাকাত দল হানা দিয়ে ট্রাকভর্তি করে ডাল নিয়ে চলে যাচ্ছে। আমরা ডাল মিলে নিরাপত্তা জোরদারের জন্য পুলিশ প্রশাসনকে বারবার অনুরোধ করেছি। কিন্তু তারপরেও তারা এ নিয়ে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। সর্বশেষ রবিবার রাতের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ব্যবসায়ীরা রাস্তায় নামেন।
/এআর/