বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীতে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে প্রচণ্ড স্রোত ও ঘুর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে তীরবর্তী প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকায় দেখা দিয়েছে ব্যাপক নদীভাঙন। জনপদ, ফসলি জমি ও স্থাপনা যমুনাগর্ভে বিলীন হয়ে চলেছে। মাত্র কয়েকদিনে ৫ শতাধিক বাড়িঘর, ৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীতে বিলীন হয়েছে। ৫ শতাধিক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ায় বাঁধে বা নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছে। ভুক্তভোগীরা বর্ষার আগেই ভাঙন রোধে কাজ করতে সংশ্লিষ্ট সবার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বলে জানা গেছে।
শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, সকালে সরেজমিন খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, সারিয়াকান্দি উপজেলার কর্ণিবাড়ি ইউনিয়নের মথুরাপাড়া, কুতুবপুর ইউনিয়নের ধলিরকান্দি গ্রাম পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যমুনাতীরে ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনের মুখে পড়েছে নিজাম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়। হুমকির মুখে রয়েছে একটি কমিউনিটি ক্লিনিকসহ ৪৩ ও ৪৯ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ওই এলাকার ৫ শতাধিক বাড়িঘর ও ৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ৫ শতাধিক পরিবার তাদের বাড়িঘর ভেঙে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্তৃপক্ষ বালিভর্তি বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছে। এলাকাবাসী অভিযোগ করছেন, পাউবো ঠিক সময়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এ কারণে ক্ষয়ক্ষতি অব্যাহত রয়েছে।
উপজেলার ধলিরকান্দি গ্রামের কৃষক হাফিজার রহমান, ফজলুল হক, তছলিম উদ্দিন, রফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তারা নদী ভাঙনে সর্বহারা হয়ে গেছেন। তারা সাহায্য নয় বরং নদীর ভাঙন রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হোক তাই চান। বয়রাকান্দি গ্রামের নাছিমা বেগম, আলেফা বেগম, পারুল আকতার জানান, যমুনার ভাঙন স্থানের কাছাকাছি তাদের বাড়ি। রাতে ভাঙন আতঙ্কে থাকেন। ভাঙনের শব্দে ঘুমাতে পারেন না। বাড়ির পেছনে বন্যা নিয়ন্ত্রণবাঁধেও আশ্রয় নিতে দেওয়া হয় না। এখন তারা কোথায় যাবেন? এই ভেবে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ধলিরকান্দি গ্রামের মৃত ইছাহাক মন্ডলের স্ত্রী সারবানু বেগম, মোজাম মন্ডলের স্ত্রী লাভলী বেগম জানান, পূর্বে বাতাস উঠলেই নদীতীরে ভাঙন শুরু হয়। ঈদের আগে ৬ নৌকা বালিভর্তি বস্তা ফেলা হয়েছে। এরপরও পানি উন্নয়ন বোর্ডের আর কেউ আসেনি।
কুতুবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইমরান আলী রনি বলেন, প্রতিদিন নদী ভাঙছে। শুকনো মৌসুমে নদীর কাজের আশায় থাকলে পুরো গ্রাম বিলীন হয়ে যাবে। নতুন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি হুমকির মুখে পড়বে। মানুষের আশ্রয় নেওয়ার জায়গা থাকবে না। নিজাম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের শরীরচর্চা শিক্ষক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আনছার আলী জানান, ধলিরকান্দিতে ভাঙনের অবস্থা ভয়াবহ। জরুরি ভিত্তিতে কাজ না করলে ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিলীন হয়ে যাবে। এতে প্রায় ৯০০ শিক্ষার্থীর লেখাপড়া বিঘ্নিত হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রুহুল আমিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ধলিরকান্দি থেকে রৌহদহ পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার এলাকায় ৩০১ কোটি টাকা ব্যয়ে নদী ভাঙন ঠেকানোর মূলকাজ শুরু হবে নভেম্বরে। কাজগুলো বাস্তবায়ন করবে নৌবাহিনী। কাজটি শেষ হবে ২০১৮ সালের জুনে। চলতি ২০১৬ সালে বর্ষার সময় কাজটি পাস হয়েছে। সে কারণে ওই সময় কিছু বালু ভর্তি বস্তা ফেলার কাজ করা হয়েছে। নদীতে স্রোত না কমা পর্যন্ত বস্তা ফেলে কোনও লাভ হবে না। শুষ্ক মৌসুমে সিসি ব্লক ফেলে ভাঙন ঠেকানোর মূল কাজ করা হবে।
/এইচকে/আপ-এআর/