শহীদ মডেল স্কুলের সমাজ বিজ্ঞানের শিক্ষক কামরুল ইসলাম গত সোমবার চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সামি বিল্লাহকে প্রথমে ডাস্টার দিয়ে পেটান ও পরে লাথি মারেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সামির বাবা বৈদ্যুতিক পণ্যের ব্যবসায়ী বাকী বিল্লাহ মঙ্গলবার সাংবাদিকদের কাছে এবং স্কুল প্রধানের বরাবরে এমন অভিযোগ দেন। অভিযোগ দেওয়ার পরপরই ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসানুজ্জামান রঞ্জু এবং অভিযুক্ত তিন শিক্ষক মঙ্গলবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত দফায় দফায় বাকী বিল্লাহর দোকানে এসে বিষয়টি তড়িঘড়ি মীমাংসার অনুরোধ করেন।
সামির বাবা বাকী বিল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার ছেলে সামী বিল্লাহ শহীদ মডেল স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। সামির কিডনির সমস্যা থাকায় স্কুল থেকে ছুটি নিয়ে কয়েকবার তাকে ভারতে চিকিৎসা করানো হয়। বিষয়টি সব শিক্ষকই কমবেশি জানেন। বর্তমান শিক্ষানীতি অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের পেটানো নিষেধ, তার ওপর অসুস্থ ছাত্র-ছাত্রীকে মারধর করারও সুযোগ নেই। পড়া মুখস্ত না হওয়ায় সোমবার দুপুরে সমাজ বিজ্ঞানের শিক্ষক কামরুল ইসলাম সামিকে ক্লাসরুমের বাইরে টানা অধাঘন্টা রোদে দাঁড় করিয়ে রাখেন। এরপর লাথি মেরে তাকে ক্লাসরুমে ঢুকতে বলেন।’
এর আগে ইংরেজির শিক্ষক কাইয়ুম হোসেন সহপাঠিদের সঙ্গে কথা বলার কারণে সামিকে ডাস্টার দিয়ে পেটান বলে অভিযোগ করেন বাকী বিল্লাহ। ইংরেজির আরেক শিক্ষক জুলেখা খাতুনের বিরুদ্ধেও তিনি সামিসহ বেশ ক’জন শিক্ষার্থীকে পেটানোর অভিযোগ তুলেছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে ওই স্কুলে গেলে সামির সহপাঠী ওহি ও কায়সার সহ বেশ ক’জন শিক্ষার্থী জানান,অনেক শিক্ষকই প্রায়ই তাদের পেটান। এ সময় তারা আরও অভিযোগের কথা বলতে চাইলে গার্ড তাদের ধমক দিয়ে স্কুলের ভেতরে নিয়ে যান।
সন্ধ্যায় দ্বিতীয় দফায় ওই স্কুলে গেলে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসানুজ্জামান রঞ্জু বলেন,‘আমার এখানে ছাত্র-ছাত্রীদের পেটানো নিষেধ। কেউ অপরাধ করলে শিক্ষকদের তা জানাতে হবে। ছাত্র-ছাত্রী পেটানোর অধিকার শিক্ষকদের দেওয়া হয়নি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তবে শিক্ষক কামরুল ইসলাম বলেন,‘সামি ক্লাসরুমে দুষ্টামী করায় তাকে শাসন করা হলেও মারপিট করা হয়নি।’ শিক্ষক কাইয়ুম হোসেন বলেন, ‘সামির বাবা প্রতিষ্ঠান বরাবরে যে ধরনের অভিযোগ দিয়েছেন, তা সত্য নয়।’ শিক্ষক জুলেখা খাতুন বলেন,‘শিক্ষার্থীদের মাঝে-মধ্যে দু’একটা চর-থাপ্পড় দেওয়া হলেও স্কেল বা ডাস্টার দিয়ে পেটানো হয় না।’
উল্লেখ্য, এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি প্রায় দুই দশক আগে সিরাজগঞ্জে ক্যাডেট কোচিং হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এরপর কয়েক বছর আগে এটি মডেল স্কুল হিসেবে এর যাত্রা শুরু করে।
/এফএস/এপিএইচ/