উদ্ধারকৃত ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলাম আসাদ (৪২) শহরের উত্তর চৌকিরপাড় এলাকার আব্দুল হালিম হাওলাদারের ছেলে। আটক অপহরণকারী সাদিকুর রহমান ওরফে লিটন শহরের নান্নুর মোড় (তালতলা হাফরাস্তা) এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে আটক অপহরণকারী ও উদ্ধারকৃত ব্যবসায়ীকে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করে র্যাব। আশরাফুল ইসলাম আসাদ বর্তমানে নাটোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
র্যাব-৫, সিপিসি-২ নাটোর ক্যাম্পের কমান্ডার এএসপি মিজানুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার মধ্যরাতে নাটোর ক্যাম্পের একদল র্যাব সদস্য শহরের নান্নুর মোড় এলাকার এমআরসি ইট ভাটায় অভিযান চালায়। এসময় তারা অপহৃত ব্যবসায়ী আসাদকে উদ্ধার ও অপহরণের মূল পরিকল্পনাকারী লিটনকে আটক করে।
এ সময় ঘটনাস্থল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি একটি পিস্তল (৭.৬৫ এমএম), দুই রাউন্ড গুলি, একটি চাপাতি, একটি কিরিচ, দুইটি জিআই পাইপ, একটি মোটরসাইকেল ও একটি মোবাইফ ফোন জব্দ করা হয়। এ ব্যাপারে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
উদ্ধারকৃত ব্যবসায়ী আসাদ জানান, ‘মঙ্গলবার গভীর রাতে সোহেল নামে এলাকার চিহ্নিত এক সন্ত্রাসী আরো ১৩ জন সন্ত্রাসীকে নিয়ে আমার বাড়িতে এসে ডাকাডাকি করে। আমি ঘর থেকে বাইরে আসতেই সন্ত্রাসীরা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মোটরসাইকেলে ওঠায়। এসময় আমার বাবা এগিয়ে এলে তাকেও সন্ত্রাসীরা লাথি-কিল-ঘুষি মারে। আমাকে নিয়ে এমআরসি ইটভাটা অফিসে পৌঁছে মারপিট করতে থাকে। অপহরণকারী সন্ত্রাসীরা আমার কাছে ২৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে বলে, টাকা দিতে না পারলে আমাকে প্রাণে মেরে ফেলা হবে।’
আসাদ আরও জানান, ‘দাবি পূরণ করার সামর্থ নেই জানালে সন্ত্রাসীরা আমাকে বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র দিয়ে নিষ্ঠুরভাবে মারতে থাকে। এরপর তারা আমাকে নিয়ে হাফরাস্তা মোড়ে যায়। সেখানে এক বটগাছের বেঁধেও অমানুষিকভাবে নির্যাতন করে। সেখান থেকে আবার ইটভাটা অফিসে নিয়ে গিয়ে মারধর করে। এসময় তারা হুমকি দেয়, টাকা না দিলে আমাকে মেরে হালতিবিলে ফেলে দেবে যাতে আমার আত্মীয়-স্বজনরা লাশটি না পায়।’
র্যাব সদস্যরা গিয়ে উদ্ধার করায় পুনর্জীবন পেলেন বলে জানান আসাদ। অন্য অপহরণকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
আরও পড়ুন-
মিলারদের কারসাজিতে মোটা চালের কেজি ৪০ টাকা
নারী জেএমবি: কেউ স্বামীর প্ররোচনায়- কেউবা নিজেই
/এফএস/