বাস আটকে শ্রমিকদের মারধর, সড়ক অবরোধ

বগুড়াসিরাজগঞ্জের চান্দাইকোনায় বগুড়ার বাস-কোচ আটকে শ্রমিকদের মারধরের অভিযোগ ওঠেছে। এতে প্রায় ৬ ঘণ্টা বগুড়া, নওগাঁ ও অন্যান্য জেলার বিপুল সংখ্যক যানবাহন সেখানে আটকে থাকে। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রীদের।বুধবার সকালের এ ঘটনার প্রতিবাদে বগুড়া ও নওগাঁ মোটর মালিক গ্রুপ অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে।
বগুড়া মোটর মালিক গ্রুপের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, নতুন করে কোনও যানবাহন নামালে পার্শ্ববর্তী জেলার মালিক সমিতির সঙ্গে আলোচনা করতে হয়। সম্প্রতি সিরাজগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপ ও শ্রমিক ইউনিয়ন অবৈধভাবে সিরাজগঞ্জ-নওগাঁ রুটে ‘অপরূপা ও তনয়’ নামে দুটি বাস নামায়। অনুমতি না নেওয়ায় বগুড়া ও নওগাঁ মোটর মালিক গ্রুপ ওই দুটি বাস চলাচলে বাধা দেয়। এ নিয়ে দুবার বৈঠক হলেও সমাধান হয়নি। বিভাগীয় পর্যায়ে বৈঠক হলে বাস দুটি চলাচল স্থগিত করে।

তিনি আরও জানান, গত ১৮ অক্টোবর সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার বগুড়া, নওগাঁ ও সিরাজগঞ্জ জেলার মালিক গ্রুপের নেতাদের ডেকেছিলেন। পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে সুরাহা হওয়ার কথা।

এদিকে সিরাজগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপ ও শ্রমিক নেতারা বুধবার সকালে চান্দাইকোনা এলাকায় বগুড়া ও নওগাঁর সব বাস-কোচ চলাচলে বাধা দেয়। এতে সেখানে শুধু বগুড়ার দেড় শতাধিক গাড়ি আটকে গেলে বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বগুড়ার পুলিশ সুপারের অনুরোধে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে যানবাহন চলাচল শুরু হলেও বগুড়ার ৪-৫টি গাড়ি ভাঙচুর ও শ্রমিদের মারধর করা হয়। এরপর আবার যানবহান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বগুড়ার ও সিরাজগঞ্জের এসপির হস্তক্ষেপে বেলা ১২টার দিকে যানবাহন চলাচল শুরু হয়।
সিরাজগঞ্জের এসপি মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ জানান, সমস্যা দুই জেলার পরিবহণ মালিকদের মধ্যে। দুপুর থেকে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

বগুড়ার পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানান, আলোচনা সাপেক্ষে যানবাহন চলাচল করছে।

বগুড়া মোটর মালিক গ্রুপের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম জানান, সিরাজগঞ্জের পরিবহণ মালিক ও শ্রমিকদের হঠকারি সিদ্ধান্তে সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চান্দাইকোনায় ১৫০ শতাধিক যানবাহন আটকা পড়েছিল।

প্রশাসনের অনুরোধে পরিস্থিতি আপাতত শান্ত হয়েছে। আগামী ২৫ তারিখের পর পরিস্থিতি দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/এআর/