বগুড়ায় মন্দির থেকে কালীসহ চারটি প্রতিমার মাথা চুরি

বগুড়ায় মন্দির থেকে কালীসহ চারটি প্রতিমার মাথা চুরিবগুড়ার ধুনটের ইছামতি নদীর তীরে কেন্দ্রীয় শ্মশানঘাট সংলগ্ন মন্দির থেকে রহস্যজনকভাবে কালীসহ চারটি প্রতিমার মাথা চুরি হয়েছে। বুধবার রাতের এ ঘটনা প্রশাসনকে অবহিত করার পর বৃহস্পতিবার বিকালে নদীতে প্রতিমাগুলো বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসী ধারণা, হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে। দু’বছর আগেও এভাবে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল। তবে পুলিশ ও প্রশাসন বলছে, মাদকসেবীরা এ কাণ্ড ঘটিয়েছে।

মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুনিল কুমার সাহা জানান, ইছামতি নদীর তীরে শ্মশান ঘাটের পাশে একটি জায়গায় দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে কালী পূজা করা হচ্ছে। কালী প্রতিমা বছরজুড়ে মন্দিরে রাখা হয়। পূজার সময় এলে পুরানো প্রতিমা বিসর্জন দিয়ে নতুন করে তৈরি করা হয়ে থাকে।’

সুনিল কুমার বলেন, ‘এ বছরও প্রতিমা মন্দিরে রাখা হয়েছিল। বুধবার গভীর রাতে কে বা কারা মন্দিরে ঢুকে কালী, মহাদেব, ডাকিনী ও যোগিনী প্রতিমার মাথা ভেঙে নিয়ে গেছে। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।’

প্রতিমা ভাঙচুরের খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ ইব্রাহীম খলিলুল্লাহ, থানার ওসি মিজানুর রহমান, পৌর মেয়র এজিএম বাদশাহ্ ও পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

ধুনট উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ বিকাশ চন্দ্র সাহা জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে মাথাবিহীন প্রতিমা ইছামতি নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয়েছে।

ধুনট থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, ইছামতি নদীর তীরে শ্মশানঘাট এলাকায় কোনও বসতি নেই। স্থানীয়দের তথ্যমতে সেখানে মাদকসেবীদের আড্ডা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, মাদকসেবীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। কেউ অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এলাকাবাসীরা জানান, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মাঝে বিরোধের জের ধরে দু’বছর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছিল। তাদের ধারণা এবারের ঘটনাও একই কারণে ঘটে থাকতে পারে।

ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ ইব্রাহীম খলিলুল্লাহ জানান, মন্দিরের কোনও প্রাচীর নেই। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাদকসেবীরাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এ কারণে মন্দিরের আশেপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

/এএ/