এবার চলচ্চিত্র নির্মাণে অনন্য অবদান রাখায় এ পদক পেলেন ভারতের প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত ও বাংলাদেশের মোরশেদুল ইসলাম। আর চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনে অনন্য অবদান রাখায় ভারতের ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক প্রেমেন্দ্র মজুমদারকে এ পদক দেওয়া হয়। মঞ্চ নাটক ও চলচ্চিত্রে আলোকসম্পাতে অনন্য অবদান রাখায় পদক পেলেন রাজশাহীর আলোকশিল্পী আবু তাহের।
আর চলচ্চিত্র নিয়ে গবেষণায় অসমান্য অবদান রাখায় এ পদক পেয়েছেন বাংলাদেশের খ্যাতিমান চলচ্চিত্র ও নজরুল গবেষক অনুপম হায়াৎ। অনুপম হায়াৎ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে না পারায় তার পক্ষে পদক গ্রহণ করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদের সভাপতি ড. সাজ্জাদ বকুল। বাকি সবাই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে পদক গ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘রাজশাহী এখন মোটামুটিভাবে একটা বিরাট সাংস্কৃতিক অঙ্গন হয়ে উঠেছে। রাজশাহীর কিছু প্রতিষ্ঠান অপ্রাতিষ্ঠানিক ভাবে যে কাজ-কর্ম করছে, তার ফলেই আজকে রাজশাহীর মানুষ অনেক বেশি প্রাণদীপ্ত হয়ে আছে।’
পদক পেয়ে অনুভূতি জানাতে গিয়ে চলচ্চিত্রকার বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত বলেন,‘ঋত্বিক ঘটক সারা বিশ্বের সচেতন দর্শকের ভেতর ছড়িয়ে আছেন। বাইরের দেশে গেলে সে দেশের চলচ্চিত্র নির্মাতারা এখনও আমার কাছে ঋত্বিক ঘটকের চলচ্চিত্রের হালহকিকত খোঁজ নেন। তার সৃষ্টি আজও মানুষকে বিস্মিত করে।’
মোরশেদুল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকার বাইরে চলচ্চিত্র সংসদ কাজ করছে, ঋত্বিক ঘটক ফিল্ম সোসাইটি চমৎকার এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে তা প্রমাণ করেছে।’
প্রেমেন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘ঋত্বিক ঘটক সব চলচ্চিত্র নির্মাতার কাছে আদর্শ। এ ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই। এই সম্মাননা জেতা ভাগ্যের ব্যাপার। বাংলাদেশে এসে, যে দেশে আমাদের শেকড় রয়েছে, সেখানে এমন সম্মান পাওয়া আরও সৌভাগ্যের। আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ। আমি আপনাদের দেওয়া এই সম্মান ধরে রাখার চেষ্টা করবো।’
ঋত্বিক ঘটক ১৯২৫ সালের ৪ নভেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈত্রিক নিবাস এখনকার রাজশাহী হোমিওপ্যাথিক কলেজ। ঋত্বিক ঘটক চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির পাঠ শেষ করেন রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল থেকে। ১৯৪৬ সালে আইএ পরীক্ষা দেন রাজশাহী কলেজ থেকে। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর পরই পরিবারের সঙ্গে চলে যান ভারতে। তার নির্মিত চলচ্চিত্রগুলো আজও মানুষকে বিমোহিত করে। ঋত্বিক ঘটকের ৯১তম জন্মদিন উপলক্ষে রাজশাহীতে আয়োজন করা হয়েছে পাঁচ দিনের চলচ্চিত্র উৎসব
শনিবার (৫ নভেম্বর) থেকে মঙ্গলবার (৮ নভেম্বর) পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত রাজশাহী মহানগরীর পদ্মাপাড়ে লালন মঞ্চ ও বড়কুঠি মঞ্চে বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও নেপালের নির্মিত ৩০টি চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হবে এবারের উৎসবে।
/এমডিপি/