এ ব্যাপারে রবিবার রাতে এই মামলার বাদী ও নিহত শিক্ষকের ছেলে রিয়াসাত ইমতিয়াজ সৌরভ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, `চার্জশিট এখনও হাতে পাইনি। তবে ফরমাল নোটিশ হয়েছে। সেটা রাতে (রবিবার) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়ে এসেছিলেন। নোটিশে আটজনের নামে চার্জশিট করা হয়েছে। চার্জশিটে যে নামগুলো দেখছি, আমার জানামতে যারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তাদের সবার নামই রয়েছে। তবে মামলার প্রধান আসামি শরিফুল ধরা পড়লে অনেক বেশি ভালো হত। কারণ সে এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী।’
রিয়াসাত আরও বলেন, `পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে কথা হয়েছে, তিনি জানিয়েছে শরিফুল পুলিশের সীমানার মধ্যেই আছে। তাকে দ্রুত আটক করা পুলিশের পক্ষে সম্ভব হবে। কারণ শরিফুলের অবস্থান সম্পর্কে পুলিশ অবহিত আছে। আমাদের তাদের (পুলিশ) প্রতি আস্থা রয়েছে।’
শরিফুলের ভারতে যাওয়ার বিষয়ে বললে তিনি আরও বলেন, ‘আমরাও শুনেছি সে ভারতে আছে। কিন্তু মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (রেজাউস সাদিক) বলছে, সে (শরিফুল) বাংলাদেশেই আছে। তাই ধরানা পর্যন্ত, কোনটা সঠিক তা বলতে পারব না।’
শরিফুলের ব্যাপারে রবিবার রাতে রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতেখায়ের আলম বলেন, ‘শরিফুল পলাতক আছে। কিন্তু কোথায় আছে, তা জানি না। গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। তাই তাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য আমরা পুরস্কারও ঘোষণা করেছি। আমরা শরিফুলকে গ্রেফতারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
এদিকে রবিবার সন্ধ্যায় সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতেখায়ের আলম জানিয়েছিলেন, মোট আটজনকে আসামি করে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ইতোমধ্যেই তিনজন নিহত হয়েছে। এরা হলো- খাইরুল ইসলাম বাদল, উসমান ও নজরুল ইসলাম। এই মামলার এক নম্বর আসামি শরিফুল ইসলাম পলাতক। এছাড়া রিপন, আবদুস সাত্তার, রহমতুল্লাহ ও মাসকাওয়াত ওরফে আবদুল্লাহ কারাগারে আছে। তারা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।
তিনি আরও জানান, রাজশাহী আদালতে পুলিশের পক্ষ থেকে চার্জশিট মেট্রো কোর্টে জমা দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে কোন আদালতে মামলাটি দেওয়া হবে তা নির্ধারণ করা হবে।
এর আগে ড. রেজাউল করিম হত্যার বিচার দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন মহল আন্দোলন করে আসছিল।
অধ্যাপক রেজাউল হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক রেজাউস সাদিক বলেন, ‘বিষয়টি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সঠিক যাচাই-বাছাই করতে তদন্তে দেরি হয়েছে।’
এদিকে চলতি বছরের ২০ আগস্ট এই প্রতিবেদক রাজশাহী বাগমারা উপজেলার শ্রীপুর খামারপাড়া গ্রামে শরিফুলের বাড়িতে গিয়ে তাদের আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছিল, ‘সে মৃত না জীবত তা তারা জানে না। তাদের সঙ্গে কারও কোনও যোগাযোগ নেই।’
চলতি বছরের ২৯ জুলাই রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যাকাণ্ডে জড়িত জেএমবির দুই সক্রিয় সদস্যকে ধরিয়ে দিতে এক লাখ টাকা করে পুরস্কার ঘোষণা করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)। জেএমবির অভিযুক্ত দুই সদস্য হলো শরিফুল ইসলাম ওরফে খালিদ (২৫) ও নজরুল ওরফে হাসান ওরফে বাইক হাসান (২৬)। এর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে নজরুল নিহত হন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল রাজশাহী মহানগরীর শালবাগান এলাকায় নিজ বাড়ির অদূরে অধ্যাপক রেজাউল করিমকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নিহত শিক্ষকের ছেলে রিয়াসাত ইমতিয়াজ সৌরভ বাদী হয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।
/এআর/