বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ দ্বন্দ্বে শিক্ষককে পিটিয়ে জখম

আহত শিক্ষক মিজানুর রহমান বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি পদ নিয়ে দ্বন্দ্বে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার পাঁচবাড়িয়া গ্রামে এক প্রধান শিক্ষককে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। প্রধান শিক্ষকের পরিবারের সদস্যদের দাবি, তার বাম হাত ও ডান পায়ের হাড় ফেটে গেছে। এছাড়া মাথায় গুরুতর জখম হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তির পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

আহত মিজানুর রহমান উপজেলার দ্বারিখৈর এলাকার সম্বল আলী মণ্ডলের ছেলে এবং পাঁচ বাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

আহত শিক্ষকের বোন জাহান আরা পারভীন দাবি করেন, দীর্ঘদিন থেকেই স্থানীয় ইউএনও পাঁচ বাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন। সম্প্রতি স্থানীয় লোকজন বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ কমিটির সদস্য হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে ইউএনও বিদ্যালয়ে পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনের আয়োজন করেন। উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তাকে তিনি প্রিজাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেন। আগামী ৫ ডিসেম্বর এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।  কিন্তু স্থানীয় সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী পাঁচবাড়িয়া গ্রামের ধউত আলীর ছেলে বাচ্চু কোনও নির্বাচন ছাড়াই বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির পদ পেতে নানাভাবে মিজানকে চাপ দিতে থাকলেও তিনি তা করতে অস্বীকার করেন। এ নিয়ে মিজানের সঙ্গে বাচ্চুর দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। পাঁচবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার কেন্দ্র করা হয়েছে যেখানে মিজান কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। মঙ্গলবার সকালে মিজান তার দায়িত্ব পালনের জন্য একটি সিএনজিতে করে রওনা হন। পথে বাচ্চু ও তার অনুসারীরা মিজানকে গাড়ি থেকে নামিয়ে একটি রেজুলেশন বইতে স্বাক্ষর করতে বলেন যাতে ঘোষণা দেওয়া হয় যে বাচ্চুকে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মনোনিত করা হয়েছে।  রেজুলেশন বইতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করায় বাচ্চু ও তার অনুসারীরা মিজানকে লোহার রড ও লাঠি-সোটা দিয়ে মারপিট করে। স্থানীয়রা মিজানকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

মিজানের বাম হাত ও ডান পায়ের হাড় ফেটে গেছে। এছাড়া সমস্ত শরীর ও মাথায় গুরুতর জখম হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ইউএনও ইসরাফ ফারজানা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

বড়াইগ্রাম থানার ওসি শাহরিয়ার খান জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কোনও মামলা দায়ের হয়নি। মামলা হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/বিটি/