স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, সংসদ সদস্য প্রফেসর হাবিবে মিল্লত মুন্না, সংসদ সদস্য হাসিবুর রহমান স্বপন, পৌর মেয়র সৈয়দ আব্দুর রউফ মুক্তা ও চেম্বার প্রেসিডেন্ট আবু ইউসুফ সুর্য্য ইজতেমা ময়দানের মূল প্যান্ডেলে মোনাজাতে অংশ নেন। ইজতেমা ময়দান ও আশপাশের এলাকায় মোনাজাতে অংশ নেওয়া লাখো লাখো মুসুল্লির কণ্ঠে আমিন আমিন ধ্বনি উচ্চারিত হতে থাকে। পাশের মহল্লাগুলোর বাড়িতে বাড়িতে নারীরাও জমায়েত হয়ে মোনাজাতে অংশ নেন।
আখেরি মোনাজাতে অংশ নেওয়ার জন্য ভোর থেকেই ইজতেমামুখি জনস্রোত শুরু হয়। দুর্ঘটনার এড়াতে শহরে প্রবেশের সব রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। মানুষ পায়ে হেঁটে ইজতেমা ময়দানে যেতে থাকে। একপর্যায়ে ইজতেমা ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেলে পাশের বাঁধ, রাস্তা-ঘাটে ও নদী তীরে মানুষের ভীড় জমে যায়। সিভিল সার্জন অফিস ও নর্থ বেঙ্গল মেডিক্যাল কলেজের মেডিক্যাল টিম ইজতেমায় আগতদের স্বাস্থ্যসেবা দেয়। এছাড়াও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, সিরাজগঞ্জ পৗরসভা, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ অফিসের পক্ষ থেকে স্বেচ্ছায় সহযোগিতা করা হয়।
আয়োজক কমিটির সদস্য মাওলানা শোয়ায়েব সিদ্দিক জানান, বিশ্ব ইজতেমার আদলে মূলত সিরাজগঞ্জ কেন্দ্রিক এই ইজতেমায় সুদান, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলংকা ও ভারত থেকে আগত ৪৩ জন বিদেশি মেহমানসহ দেশি-বিদেশি অন্তত আড়াই থেকে তিন লাখ মুসল্লি আখেরি মোনাজাতে অংশ নেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ জানান, ইজতেমা মাঠ ও আশপাশের এলাকায় সাদা পোশাকে ও পোশাকধারী ছয়শ পুলিশ সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন। র্যাব ও অন্যান্য সংস্থার লোকজনও নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল। ইজতেমা মাঠে পুলিশ কন্টোল রুম ও সিসি ক্যামেরা দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। আগত মুসল্লিদের সুবিধার্থে ট্রাফিক সদস্যরা রাস্তায় দায়িত্ব পালন করেন।
মোনাজাতের অংশ নেওয়ার আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সাংবাদিকদের জানান, মূলত মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় লাখো লাখো মুসল্লিদের সঙ্গে মোনাজাতে অংশ নেওয়ার জন্য এখানে এসেছি। সফলভাবে ইজতেমা শেষ হওয়ায় তিনি আয়োজকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
যমুনা নদীর পশ্চিম পাড়ে পাউবোর ক্রসবার বাঁধের পাশে জেগে ওঠা পতিত জমিতে ইজতেমার নির্ধারিত কার্যক্রম শুরু হয় শুক্রবার জুম্মার নামাজের মধ্য দিয়ে। আখেরি মোনাজাতে দেশ তথা সারাবিশ্বের মুসলিম উম্মাহর মঙ্গল কামনা করা হয়।
আরও পড়ুন:
‘আমার নাম শাহান আরা, বীরাঙ্গনা না’
/বিটি/