চাঁপাইনবাবগঞ্জে শুষ্ক মৌসুমেও পদ্মা নদীতে ভাঙন

Chapainawabganj PHOTO-01. 24.01.17 শুষ্ক মৌসুমেও চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদীর ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের কয়েক গ্রামের বাসিন্দারা। দুই সপ্তাহের নদী ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে বেশকিছু বাড়িঘর, নদী তীরবর্তী বেশকিছু এলাকা, ফসলি জমি ও জনপদ।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম আসলে জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টরা ভাঙন প্রতিরোধে প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে নেওয়া হয়নি কোন উদ্যোগ। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, বরাদ্দ পেলেই উদ্যোগ নেওয়া হবে ।   

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক দশক ধরে বর্ষা মৌসুমে পদ্মার ভাঙনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আলাতুলি, দেবীনগর, নারায়নপুর, সুন্দরপুর ও চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম বিলীন হয়ে আসছে। আর এ নদী ভাঙনে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ, ব্রিজ, কালভার্ট, বসত বাড়ি, আমবাগান ও ফসলি জমি হারিয়ে হাজার হাজার মানুষ একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো তাদের সবকিছু হারিয়ে নতুন ঠিকানা খুঁজে পাওয়ার আগেই অসময়ের এই ভাঙন তাদের বেকায়দায় ফেলেছে। শুষ্ক মৌসুমে চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের গোয়ালডুবি হয়ে মালবাগডাঙ্গা-রোডপাড়া-কাইরাপাড়সহা কিছু কিছূ এলাকায় এই নদী ভাঙন শুরু হয়েছে।

কয়রাপাড়ার মফিজ উদ্দিন জানান, বর্ষাকালে নদী ভাঙন দেখে অভ্যস্ত হয়েছি, কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে নদী ভাঙনে ঘরবাড়ি বিলীন হওয়া খুব কম দেখেছি।

বৃদ্ধা আজেদা বেগম জানান, ইতোপূর্বে ভাঙনে ৩ দফা বাড়ি হারিয়েছি। এখন শুস্ক মৌসুমে পরের জমিতে কোনরকমে টিনের চালা দিয়ে বাড়ি করে বসবাস করছিলেন। কিন্তু শীতকালেও নদী ভাঙনে শেষ ঠাঁইটুকু গত ৫ দিন আগে পদ্মা কেড়ে নিয়েছে।

Chapainawabganj PHOTO-03.24.01.17 স্থানীয় সূত্রে জানা গেছ, পানি উন্নয়ন বোর্ড ২০১২ সালে সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন ভাঙনরোধে সিসি ব্লক দিয়ে ৮, ৯ ও ১০ নম্বর বাঁধ নির্মাণ করে। কিন্তু ২০১৫ সালের বর্ষা মৌসুমে পানির তোড়ে ৮ ও ১০ নম্বর বাঁধের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারপর বর্ষা ও চলতি শুষ্ক মৌসুমেও গোয়ালডুবি থেকে প্রায় ২২’শ মিটার পর্যন্ত এলাকাজুড়ে নদী ভাঙন অব্যাহত থাকায় ২৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পদ্মার বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্পসহ পুরো প্রকল্পই ভেস্তে যাবার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাঁধের ক্ষতিগ্রস্থ অংশগুলো সংস্কারের জন্য ঠিকাদারও নিযুক্ত করা হয়েছে। তবে, গোয়ালডুবি থেকে প্রায় ২২’শ মিটার পর্যন্ত বাঁধ নির্মাণের প্রকল্প অনুমোদন না হওয়ায় এলাকার মানুষের মাঝে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহীদ রানা জানান, শুষ্ক মৌসুমেও পদ্মায় গত দুই সপ্তাহ ধরে নতুনভাবে ২ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভাঙন দেখা দেওয়ায় এলাকার মানুষের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু বাড়িঘরসহ ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে। এ মুহুর্তে ভাঙন প্রতিরোধ করতে না পারলে দীর্ঘদিন ধরে নির্মিত পদ্মার বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্পসহ পুরো প্রকল্পই ভেস্তে যাবে। এছাড়া ভাঙনের মুখে পড়েছে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, বাখর আলী বিওপি, মালবাগডাঙ্গা, গোয়ালডুবি ও ফাটাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরবাগডাঙ্গা হাট ও চরবাগডাঙ্গা দাখিল মাদ্রাসাসহ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ সাহিদুল আলম জানান, পদ্মার বুকে বিশাল উচুঁ চর পড়ায় এ ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া নদীর পাড়ে মাটির স্তরের নিচে বালুর স্তরের উচ্চতা বেশি হওয়ায় পানির ঢেউ ও বাতাস লাগায় এ ভাঙনের সৃষ্টি হচ্ছে। বাতাসের পরিমাণ কমে গেলে এ ভাঙনের পরিমাণ কমে আসবে।

তিনি আরও জানান, গোয়ালডুবি থেকে প্রায় ২২’শ মিটার পর্যন্ত বাঁধ নির্মাণের প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে পদ্মার বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্প রক্ষা পাবে।

/এমডিপি/