দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দিলে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের কক্ষের সামনে অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করে। দুপুর ২টায় শিক্ষার্থীদের সামনে রুয়েটের উপাচার্য ঘোষণা দেন, চলমান আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ৩৩ ক্রেডিট পদ্ধতি বাতিল করা হলো। একই সঙ্গে ২০১৪ ও ১৫ শিক্ষাবর্ষের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রমের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার এবং বন্ধ করে দেওয়া টিনশেড হল খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেন। এছাড়া আগামী শনিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) থেকে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে আসার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় সেখানে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন ও সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারও উপস্থিত ছিলেন।
রুয়েট সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের পরবর্তী বর্ষে উত্তীর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে দুই সেমিস্টারে বাধ্যতামূলক ৪০ ক্রেডিটের মধ্যে ন্যূনতম ৩৩ ক্রেডিট অর্জন করতে হয়। অন্যথায়, তাকে পুনরায় সেই বর্ষেই থাকতে হবে। এর আগে নিয়ম ছিল, কোনও শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অকৃতকার্য বা অনুপস্থিতির কারণে ন্যূনতম ক্রেডিট অর্জন না করলেও পরবর্তী বর্ষে উত্তীর্ণ হতে পারতো। সেক্ষেত্রে পরবর্তীতে তাকে পরীক্ষা দিয়ে ওই ক্রেডিট অর্জন করতে হতো। তবে ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে এ নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়।
ন্যূনতম ৩৩ ক্রেডিট নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিল, ৩৩ ক্রেডিট পদ্ধতির কারণে শিক্ষার্থীরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হবে। বিশেষ করে, রুয়েটে ক্লাস-ল্যাবের সংকট থাকার কারণে যারা ক্রেডিট অর্জন করতে পারবে না তাদেরকে অন্য ব্যাচের সঙ্গে ক্লাস বা ল্যাবে থাকতে হবে। সেক্ষেত্রে জায়গা ও শিক্ষাগত দুই দিকেই সমস্যা হবে। এছাড়া কোনও শিক্ষার্থী অসুস্থ বা অন্য কোনও সমস্যার কারণে পরীক্ষা দিতে না পারলে তার এক বছরের বেশি সময় ক্ষতি হবে। এমনকি সিলেবাসগত জটিলতাতেও পড়তে হয় ওই শিক্ষার্থীকে। তাই এ পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে গত ২৮ জানুয়ারি থেকে আন্দোলন করে আসছিল শিক্ষার্থীরা।
তবে আজ শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ায় শিক্ষার্থীরা এখন একের অধিক বিষয়ে অকৃতকার্য বা অনুপস্থিতির কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলেও পরবর্তী বর্ষে উত্তীর্ণ হতে পারবে। সেক্ষেত্রে ব্যাকলগ সিস্টেম অর্থাৎ পরবর্তীতে সেই বিষয়গুলো পরীক্ষা দিয়ে ক্রেডিট অর্জন করতে পারবে।
জানা যায়, গত ২৮ জানুয়ারি থেকে ক্লাস বর্জন করে আন্দোলন করে আসছে শিক্ষার্থীরা। টানা চারদিন আন্দোলনের পর ৩১ জানুয়ারি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ। পরে ২ জানুয়ারি সকাল ১০টার মধ্যে টিনশেড হলে অবস্থানরত আন্দোলনকারী ১৪ ও ১৫ সিরিজের শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা হল ছাড়লেও গতকাল শনিবার থেকে ক্লাস বর্জন করে আন্দোলনে অংশ নেয়। দুপুর ২টা থেকে তারা উপাচার্য কার্যালয় ঘেরাও করে আন্দোলন করে আসছিল। রাতভর অবরুদ্ধ থাকার পর রবিবার সকালে একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভা ডাকে কর্তৃপক্ষ। সেখানে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে উপাচার্যের কার্যালয়ে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি খায়রুজ্জামান লিটন ও সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারসহ নেতাকর্মীরা আসেন। সেখানে তারা শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে কথা বলেন। পরে ২টার দিকে শিক্ষার্থীদের সামনে এসে দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেন উপাচার্য অধ্যাপক রফিকুল আলম বেগ। ঘোষণার পরই শিক্ষার্থীরা উল্লাসে মেতে ওঠেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ১১ আগস্ট একই দাবিতে রুয়েটের উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে প্রশাসন ভবনের সামনে আন্দোলন করেন রুয়েটের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। টানা দুই দিন আন্দোলনের পর ১২ আগস্ট রাতে ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের সব ক্লাশ-পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে প্রশাসনের অনড় অবস্থানের কারণে তখন শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে আসেন।
/বিটি/
আরও পড়ুন:
মধ্যরাতেও অবরুদ্ধ রুয়েট উপাচার্য