মেয়র মিরু কারাগারে, রিমান্ডের সিদ্ধান্ত শাহজাদপুর আদালতে

আদালত প্রাঙ্গনে মেয়র মিরুসাংবাদিক শিমুল হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌরসভার মেয়র হালিমুল হক মিরুকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সোমবার দুপুরে তাকে সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে তার রিমান্ড শুনানির জন্য মামলাটি শাহজাদপুর আমলি আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জেলা কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক আল মামুন জানান,বিকাল পৌনে ৪টার দিকে মিরুকে কারাগারে আনা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহজাদপুর থানার পরিদর্শক মনিরুল আলম জানান, মিরুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতদিনের রিমান্ড চাইবে পুলিশ।

উল্লেখ্য, সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুল হত্যায় অভিযুক্ত শাহজাদপুর পৌরসভার মেয়র হালিমুল হক মিরুকে রবিবার রাত ১০টার দিকে রাজধানীর শ্যামলী এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। রাতেই তাকে সিরাজগঞ্জে নিয়ে আসা হয়।

এর আগে গত ২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের সময় পৌর মেয়র হালিমুল হক মিরুর শটগানের গুলিতে দৈনিক সমকালের সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা প্রতিনিধি শিমুল আহত হন। শাহজাদপুরের দিলরুবা বাস টার্মিনাল থেকে উপজেলা সদর পর্যন্ত রাস্তার কাজ নিয়ে পৌর মেয়র মিরুর ছোট ভাই হাসিবুল ইসলাম পিন্টুর সঙ্গে পৌর আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ভিপি রহিমের শ্যালক ছাত্রনেতা বিজয়ের বিরোধ ছিল। এর জের ধরেই বিজয়কে বেধড়ক মারধর করেন পিন্টু। এতে তার হাত-পা ভেঙে যায়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে দলের কর্মী-সমর্থক ও বিজয়ের মহল্লা কান্দাপাড়ার লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে দিলরুবা বাস টার্মিনাল এলাকায় গিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে। একপর্যায়ে অবরোধকারীদের একটি অংশ মনিরামপুর এলাকায় অবস্থিত পৌর মেয়রের বাড়ি ঘিরে ইট-পাটকেল মারতে থাকে। ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহের সময় মেয়রের ছোড়া গুলিতে আহত হন সাংবাদিক শিমুল। আহত অবস্থায় তাকে বগুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা যান তিনি। এ ঘটনায় শিমুলের স্ত্রী নুরুন নাহার ও পৌর মেয়রের ভাইদের মারপিটে আহত ছাত্রলীগ নেতা বিজয় মাহমুদের চাচা এরশাদ আলীর দায়ের পৃথক মামলায় মিরুর দু’ভাই পিন্টু ও মিন্টুসহ আটজনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

/বিটি/

আরও পড়ুন:

সাংবাদিক শিমুল হত্যা: মিরুকে আদালতে তোলা নিয়ে দ্বিধায় পুলিশ