রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় ছাগল চুরির অভিযোগে গাছের সঙ্গে বেঁধে দুই কিশোরকে নির্যাতনের ঘটনায় তিনজনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে মামলার আসামি মোজাহার আলী চেয়ারম্যানসহ চারজনের জামিন মঞ্জুর করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোট ইন্সপেক্টর খুরশিদা বানু কণা। সোমবার সকালে রাজশাহীর অতিরিক্ত দায়রা জজ-২ এর বিচারক খন্দকার হায়দার আলী এই আদেশ দেন।
তারা হলেন, আনারুল ইসলাম (৩৫), রেজাউল কমির (৩০) ও আবদুল হক (২৫)। তারা তিনজনই দুর্গাপুরের আন্দুয়া এলাকার বাসিন্দা।
আদালতের জিআরও এএসআই ওহাব জানান, সোমবার সকালে তারা আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে শুনানি শেষে বিচার তিনজনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে গত রবিবার গ্রেফতারকৃত দুই ইউপি সদস্যের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন রাজশাহীর অতিরিক্ত দায়রা জজ-২ এর বিচারক খন্দকার হায়দার আলী। তারা হলেন, ইউপি সদস্য আব্দুল মোতালেব ও মির্জা আব্দুল লতিফ। তারা গত বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) জামিনের আবেদন করেন। রবিবার জামিন আবেদনের শুনানি হয়। শুনানি শেষে বিচারক তাদের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য, ছাগল চুরির অভিযোগে গাছের সঙ্গে দুই কিশোরকে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় বুধবার (৮ মার্চ) রাতেই মামলা দায়ের করেন, নির্যাতনের শিকার উপজেলার হাড়িয়াপাড়া গ্রামের কিশোর রিজভী হোসেন জার্জিসের বাবা জিয়াউর রহমান। এই মামলায় ঝালুকা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোজাহার আলী, আন্দুয়া গ্রামের ইউপি সদস্য আব্দুল মোতালেব ও হাড়িয়াপাড়া গ্রামের ইউপি সদস্য মির্জা আব্দুল লতিফসহ ৯ জনকে আসামি করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার (৭ মার্চ) রাতে দুর্গাপুর উপজেলার আন্দুয়া গ্রামের ক্যাচিনি ফকিরের ছেলে রেজাউলের বাড়ি থেকে ছাগল চুরি হয়। উপজেলার হাড়িয়াপাড়া গ্রামের জিয়াউর রহমানের ছেলে রিজভী হোসেন জার্জিস ও পলাশবাড়ি গ্রামের সেকু আলীর ছেলে রতন আলী নামে দুই কিশোর ওই ছাগলটি নিয়ে মতিহারের হরিয়ান বাজার দিয়ে যাওয়ার সময় ওই বাজারের নাইট গার্ডরা তাদের আটক করে। পরে ওই দুই কিশোরের কাছ থেকে বিস্তারিত জেনে আন্দুয়া গ্রামে খবর দিলে পরের দিন সকাল ৬টার দিকে ইউপি সদস্য আব্দুল মোতলেব তাদের নিজ জিম্মায় ছাড়িয়ে আনেন। এরপর বেলা ১১টার দিকে ছাগল মালিক রেজাউলের বাড়ির পাশেই গ্রাম্য সালিশ বসানো হয়। সালিশি বৈঠকে ওই দুই কিশোরকে গাছের সঙ্গে বেঁধে পেটানো হয়। পরবর্তীতে তাদের পরিবারের লোকজনকে খবর দেওয়া হলে তারা ঘটনাস্থলে আসেন। এরপর তাদের কাছ থেকে ১৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে দুই কিশোরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ সময় কথিত ওই গ্রাম্য সালিশি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান মোজাহার আলী মণ্ডল, আন্দুয়া গ্রামের ইউপি সদস্য আব্দুল মোতালেব ও হাড়িয়াপাড়া গ্রামের ইউপি সদস্য মির্জা আব্দুল লতিফ।
/জেবি/
আরও পড়তে পারেন: পুলিশের সোর্স সন্দেহে যুবককে হত্যাচেষ্টা, দারোগাসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা