রাউধার মৃত্যু: অপমৃত্যু ও হত্যা মামলার আলাদা তদন্ত করছে পুলিশ

রাউধা আথিফরাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী, মডেল ও মালদ্বীপের নাগরিক রাউধা আথিফের মৃত্যুর পর দুটি মামলা হয়েছে। একটি অপমৃত্যু (ইউডি) ও অপরটি হত্যা মামলা। দুটি মামলায় পৃথকভাবে তদন্ত করছে পুলিশ।
গত ১০ এপ্রিল রাউধার মৃত্যুর ঘটনায় তার সহপাঠী সিরাত পারভীন মাহমুদকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন রাউধার বাবা ডা. মোহাম্মদ আথিফ। মেডিক্যাল কলেজের হোস্টেলে রাউধার মৃত্যুর ১২ দিন পর রাজশাহীর আদালতে এই মামলা দায়ের করেন তিনি। আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে এজাহার হিসেবে রেকর্ড করার নির্দেশ দিয়েছেন নগরীর শাহ মুখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমানকে। তিনি মঙ্গলবার বিকেলে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় মামলাটি রেকর্ড করে শাহ মখদুম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার আলী তুহিনকে এই মামলার তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন।
বুধবার সন্ধ্যায় আনোয়ার আলী তুহিন এই মামলা সম্পর্কে বলেন, ‘সবে তদন্ত কাজ শুরু করেছি। মঙ্গলবার মামলা রেকর্ড হয়েছে। আজকে (বুধবার) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। কিছু দিন না গেলে বুঝা যাবে না।’
এক প্রশ্নের জবাবে আনোয়ার আলী তুহিন বলেন, ওনাদের (ইউডি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা- ডিবি শাখার পরিদর্শক রাশেদুল হক) কাছে ইউডি মামলা আছে। সেই মামলাটির তদন্ত তারা করবেন। আমরা রাউধার বাবা বাদী আদালতে যে হত্যা মামলা করেছেন তা তদন্ত করছি। দুটি মামলায় আলাদাভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।
মামলার আসামি বিদেশি হওয়ায় বিমানবন্দর ও স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষকে কোনও চিঠি দেওয়া হয়েছে কিনা চানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, তাকে (কলেজের দ্বিতীয় বার্ষের ছাত্রী ও ভারতের কাশ্মিরের মেয়ে সিরাত পারভীন মাহমুদ) আমরা নজরদারিতে রেখেছি। তবে এখনও ওইসব কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়নি। পরে এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে ইউডি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) শাখার পরিদর্শক রাশেদুল হক বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ওই মামলাটি ইউডি মামলায় রুপান্তরিত হওয়ার কথা। আবার কর্তৃপক্ষ যেটা চাইবে সেটা হবে।

রাউধার আত্মহত্যার বিষয়ে শাহ মখদুম থানায় করা অপমৃত্যুর মামলাটি গত ২ এপ্রিল নগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

রাউধার মৃত্যুতে তার বাবা ডা. মোহাম্মদ আথিফের দায়ের করা মামলায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজের দ্বিতীয় বার্ষের ছাত্রী ও ভারতের কাশ্মীরের মেয়ে সিরাত পারভীন মাহমুদ। সাংবাদিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা না বলে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, ‘রাউধার মৃত্যুর সঙ্গে তার কোনও ধরনের সম্পর্ক নেই।’

উল্লেখ, গত ২৯ মার্চ দুপুরে রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ছাত্রী হোস্টেলের ২০৯ নম্বর কক্ষ থেকে রাউধার লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশ উদ্ধারের পর পুলিশে জানিয়েছিল সিলিং ফ্যানের সঙ্গে কাপড় বেঁধে গলায় ফাঁস দিয়ে রাউধা আত্মহত্যা করেছেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর-

কেউ জানে না কেন রাউধার আত্মহত্যা!

রাউধার মৃত্যুতে হত্যা মামলা নিয়েছে পুলিশ

রাউধার মৃত্যুতে এখনও হত্যাকাণ্ডের আলামত পায়নি মালদ্বীপ পুলিশ

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন চ্যালেঞ্জ করেছেন রাউধার বাবা, মামলার প্রস্তুতি

রাউধাকে ‘হত্যা’ করা হয়েছে দাবি বাবার, পুলিশ বলছে ‘চান্স ফিফটি-ফিফটি’

/এএ/