কালবৈশাখি ঝড়ে রাজশাহীতে আমের চার শতাংশ ক্ষতি, নিহত এক

Rajshahi Kalabeshakhi Photo 10.05 (2)

রাজশাহীতে কালবৈশাখি ঝড়ে আমের চার শতাংশ ঝড়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে এই ঝড়ে আলী হোসেন নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি গোদাগাড়ী উপজেলার কাঁকনহাট এলাকার কলাবাগান গ্রামের আতাউর মুন্সির ছেলে। সোমবার দুপুরে আলী হোসেনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিপজুর আলম মুন্সি।

তিনি জানান, রবিবার সন্ধ্যায় কালবৈশাখী শুরু হলে হোসেন বাড়ির বাইরে থেকে গরু আনতে যান। এসময় তার ওপর একটি গাছ পড়ে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপারে ওসি হিপজুর আলম মুন্সি বলেন, ক্ষতির পরিমাণ হিসাব করে বলা যাবে না। তবে গোদাগাড়ী উপজেলাতেও ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। এমনকি থানার ভিতর চারটি গাড়ি রাখা ছিল। গাছ ভেঙে পরে গাড়িগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানার শ্যামপুর এলাকার আসিয়া বেগম (৩৫) নামে এক নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে যিনি ঝড়ের সময় ভয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন।

রাজশাহী নগরীর মোল্লাপাড়া এলাকার মিজানুর রহমান বলেন, আমার বাগানে ১৯২টি আম গাছ আছে। তবে এই ঝড়ে প্রচুর আম ঝড়ে পড়েছে। যা অন্যরা কুড়িয়ে নিয়ে গেছে। তারপরও আর ঝড় না হলে, বাগানে যে আম  আছে তা থেকে লাভ করতে পারব।

রাজশাহী সদর ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র অফিসার ফরহাদ হোসেন বলেন, কালবৈশাখীতে রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কসহ বিভিন্ন সড়কের ওপর  অনেক গাছ ভেঙে পড়েছে। গাছগুলো অপসারণ করে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন বিলবোর্ড ভেঙে পড়েছে। সেগুলো সিটি করপোরেশন থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের সদর ও বিভিন্ন উপজেলা ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে কাজ করেছে।

Rajshahi Kalabeshakhi mango Photo 2

 রাজশাহী পিডিপি’র প্রকৌশলী শাহীন হোসেন জানান, নগরীর উপকণ্ঠে কাটাখালিতে ৩৩ কিলোওয়াট সংযোগ লাইনের ওপর বিলবোর্ড ভেঙে পড়েছিল। এর ফলে গ্রিডের সংযোগ লাইনের তার ছিঁড়ে গেছে। এছাড়াও বিভিন্ন লাইনের উপর গাছ পড়েছে। কোথাও কোথাও তার ছিঁড়ে পড়েছে। কাটাখালি ছাড়াও নগরীর বিনোদপুর, তালাইমারি, লক্ষ্মীপুরসহ অন্তত ১০/১২টি স্থানে বিলবোর্ড ও গাছ পড়ে তার ছিঁড়ে গেছে। এজন্য রাজশাহীতে সন্ধ্যা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়া সম্ভব হয়নি। এরপর অনেক জায়গায় লাইন ঠিক করে বিদ্যৎ সংযোগ দেওয়ার জন্য লোডশেডিং দিতে হয়েছে। এজন্য পিডিপির বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে।

এদিকে সোমবার সকালেও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিরিবিচ্ছন্ন না থাকায় ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা চার্জ দিতে পারেনি অনেকে। এজন্য সোমবার সকালে নগরীতে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার সংখ্যা কম দেখা গেছে। আবার অনেকে বিদ্যুতের অভাবে মোবাইল চার্জও দিতে পারেনি বলে জানিয়েছেন।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক দেব দুলাল ঢালী বলেন, বিভিন্ন এলাকা ঘুরে রাজশাহী জেলার চার শতাংশ আমের ক্ষতি হয়েছে। এ ধরনের ঝড় আরও হলে রাজশাহীর আম চাষীরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

অন্য ফসলের ব্যাপারে দেব দুলাল ঢালী বলেন, রবিবার রাতে মৌসুমের প্রথম বড় ঝড় হয়েছে। তবে ঝড়-বৃষ্টি হলেও শিলাবৃষ্টি হয়নি। তাই ধানের তেমন কোনও ক্ষতি দেখছি না। তবে পানির ঢলে যেসব পাকা ধান তলিয়ে গেছে। সেখানে ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে পারে।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম জানান, দক্ষিণ-পশ্চিম কোন থেকে রবিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৭টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত রাজশাহীর ওপর দিয়ে কালবৈশাখী বয়ে যায়। যার গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৯০ থেকে ৯৫ কিলোমিটার। ঝড়ের সঙ্গে ভারি বর্ষণ হয়েছে। রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত রাজশাহীতে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৪৬ মিলিমিটার।

/জেবি/

আরও পড়তে পারেন: