নাটোরে পুলিশ-আ. লীগ কর্মীদের সংঘর্ষে আহত ১০

নাটোরনাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা হলরুমে মাসিক সমন্বয় সভায় অনধিকার প্রবেশের চেষ্টার সময় পুলিশ ও আওয়ামী লীগ কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৫ পুলিশসহ মোট ১০ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১১ মে) সকালে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষে আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন- এএসআই আশিক, এসআই তারিকুল ইসলাম, এএসআই জাহাঙ্গীর, এসআই সাইফুজ্জামান ও কনস্টেবল আব্দুল বাতেন। আহতদের মধ্যে ২ পুলিশ সদস্যকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও রাবার বুলেট বিদ্ধ এক আওয়ামী লীগ কর্মীকে স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

গুরুদাসপুর থানার ওসি দিলীপ কুমার দাস বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা হলরুমে এক মাসিক সমন্বয় সভা ডাকা হয়। সমন্বয় সভার সদস্য হিসেবে স্থানীয় এমপি আব্দুল কুদ্দুস ও পৌর মেয়র শাহ নেওয়াজ মোল্লার যোগদানের কথা ছিল।

কিন্তু দীর্ঘদিন থেকেই এমপি ও পৌর মেয়রের মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। আজ সকাল ৯টার দিকে মেয়র শাহ নেওয়াজ তার প্রায় দুই শত অনুসারীদের নিয়ে মোটরসাইকেল শো-ডাউনসহ সভাস্থলে পৌঁছান। মেয়র শাহ নেওয়াজ হলরুমে প্রবেশের পর তার অনুসারীরাও অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা করে। এসময় পুলিশ তাদের বাধা দিলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। পরে তারা পুলিশের ওপর চড়াও হয় ও তাদের অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।

এতে বাধ্য হয়ে পুলিশ দুই রাউন্ড শর্ট গানের গুলি ছোড়ে এবং তাদের লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসময় মেয়রসহ অন্তত ৫ জন আওয়ামী লীগ সদস্য ও তার ৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়।

আহতদের মধ্যে এএসআই আশিক ও কনস্টেবল আব্দুল বাতেনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য তিনজন প্রাথমিক চিকিৎসার পর থানায় ফিরে এসেছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে ওসি দিলীক কুমার জানান, ঘটনার পর থেকেই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এ দিকে সংঘর্ষের বিষয় নিয়ে মেয়র শাহ নেওয়াজকে ফোনের মাধ্যমে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এদিকে পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন জানান, সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ তারেক মোল্লাকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।

/এআর/