নাটোরে পুলিশ-আ.লীগ কর্মীদের সংঘর্ষ, ২৬৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নাটোরনাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা হলরুমে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র শাহ নেওয়াজ মোল্লাসহ ২৬৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৬৭ জনের নাম উল্লেখ রয়েছে বাকি ২০০ জন অজ্ঞাত।

বৃহস্পতিবার (১১ মে) রাতে গুরুদাসপুর থানার এসআই সাইদুজ্জামান বাদী হয়ে এই মামলা করেন। ইতোমধ্যেই মামলার দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- উপজেলার খামার নাচকৈড় খোয়ারপাড়া এলাকার আলহাজ আব্দুস সামাদের ছেলে আমিনুল ইসলাম রইস (২২) ও চাঁচকৈড় বাজার এলাকার জান মোহাম্মদ শেখের ছেলে মনিরুল ইসলাম মিঠু (২২)।

গুরুদাসপুর থানার ওসি দিলীপ কুমার দাস জানান, বৃহস্পতিবার (১১ মে)সকালে উপজেলা চত্বরে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় এএসআই আশিক, এসআই তারিকুল ইসলাম, এএসআই জাহাঙ্গীর, এসআই সাইফুজ্জামান এবং কনস্টেবল আব্দুল বাতেন আহত হন। এসময় তারেক মোল্লাসহ আরও ৫ জন আওয়ামী লীগ কর্মী আহত হয়। এই ঘটনায় এসআই সাইদুজ্জামান বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে মামলা দায়েরের পর পুলিশ দুই আসামিকে গ্রেফতার করে।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা হলরুমে এক মাসিক সমন্বয় সভা ডাকা হয়। সমন্বয় সভার সদস্য হিসেবে স্থানীয় এমপি আব্দুল কুদ্দুস ও পৌর মেয়র শাহ নেওয়াজ মোল্লার যোগদানের কথা ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন থেকেই এমপি ও পৌর মেয়রের মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। সকাল ৯টার দিকে মেয়র শাহ নেওয়াজ তার প্রায় দুই শতাধিক অনুসারীদের নিয়ে মোটরসাইকেল শো-ডাউনসহ সভাস্থলে পৌঁছেন। মেয়র শাহ নেওয়াজ হলরুমে প্রবেশের পর তার অনুসারীরাও অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা করে। এসময় বাধা পেয়ে তারা পুলিশের ওপর চড়াও হয়। এর এক পর্যায়ে তারা পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এরপর বাধ্য হয়ে পুলিশ দুই রাউন্ড শর্ট গানের গুলি ছোড়ে। পরে তাদের লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসময় মেয়র সহ অন্তত ৫ আওয়ামী লীগ সদস্য ও ৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়।

এসআই সাইদুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, গ্রেফতারকৃত দুইজনকে আজ (শুক্রবার) আদালতে চালান দেওয়া হবে। অন্যান্য আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে সাইদুজ্জামান জানান, ভিডিও ফুটেজ দেখে তারা আসামিদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন।

/এআর/