পুলিশ হেফাজতে বিএনপি নেতার মৃত্যু: চার পুলিশসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

বগুড়াবগুড়ার শাজাহানপুরের শাবরুল গ্রামে পুলিশ হেফাজতে আশেকপুর ইউনিয়নের সাবেক সদস্য ও ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মাসুদুল হক পিন্টুর (৪৮) মৃত্যুর ঘটনায় চার পুলিশসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। নিহতের স্ত্রী খায়রুন্নেছা বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোমবার এই মামলা (নং-২১০সি/১৭) দায়ের করেন।

এজাহারে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪/১০৯ ধারা উল্লেখ করা হয়েছে। বিচারক আবু রায়হান মঙ্গলবার তার আদেশে শাজাহানপুর থানার ওসিকে মামলাটি আগামী ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রেকর্ড করে আদালতকে অবহিত করার এবং পিবিআই’র ইন্সপেক্টরের ওপরের পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার আসামিরা হলেন- শাবরুল গ্রামের মৃত একরাম হোসেনের ছেলে এনামুল হক মিল্টন ও নিউটন, মৃত মোতাহার আলীর ছেলে ইনসান আলী, মৃত আফতাব উদ্দিনের ছেলে আবদুর রাজ্জাক, মৃত আবদুল কাইয়ুমের ছেলে আইয়ুব আলী ও তাহের আলী, সামসুল হকের ছেলে ওয়াহেদ প্রামাণিক, লিয়াকত আলীর ছেলে জনি, কৈগাড়ি ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আনিসুর রহমান, এসআই রফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল আজিবুল ইসলাম ও সাহেদ আলী।

বাদী এজাহারে উল্লেখ করেছেন, স্বামী পিন্টুর সঙ্গে প্রতিপক্ষ মিল্টন ও নিউটনদের পুকুর ও জমি-জমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলে আসছে। এ বিষয়ে আদালতে একাধিক মামলা রয়েছে। এ বিরোধের জের ধরে মিল্টন গত ১৯ আগস্ট শাজাহানপুর থানায় দুই ভাইসহ পিন্টুর বিরুদ্ধে মামলা (নং-১৯) করেন। গত ২২ আগস্ট বেলা পৌনে ৩টার দিকে কৈগাড়ী ফাঁড়ির ইনচার্জ আনিসুর রহমানসহ চার পুলিশ অন্য আসামিদের সঙ্গে নিয়ে পিন্টুর বসতবাড়িতে ঢুকে গালিগালাজ করেন। এ সময় পিন্টু এগিয়ে এলে পুলিশ ও আসামিরা তাকে বেধড়ক মারপিট এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। তারা পিন্টুর মৃত্যুর দায় এড়াতে সিএনজি অটোটেম্পুতে করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে চিকিৎসকরা  তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সেখানে আত্মীয়-স্বজন ছাড়াই পুলিশি প্রহরায় পিন্টুর লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়। পরদিন পুলিশি তত্ত্বাবধানে ময়নাতদন্ত করা হয়ছে। এরপর কাগজে কলমে লাশ স্বজনদের হাতে হস্তান্তর দেখানো হলেও পুলিশি প্রহরায় লাশের দাফন করা হয়েছে।

নিহত পিন্টুর স্ত্রী, দুই মেয়ে ও তার ভাইয়েরা জানান, আসামিরা হত্যার হুমকি-ধামকি দেওয়ায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

বাদী পক্ষে অ্যাডভোকেট স্বপন কুমার সাহা জানান, মঙ্গলবার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু রায়হান আগামী ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মামলাটি রেকর্ড করে আদালতকে অবহিত করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া এক আসামি পুলিশের ইন্সপেক্টর হওয়ায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ইন্সপেক্টরের ওপরের পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে তদন্ত করতে বলেছেন।

আরও পড়ুন- বেরোবিতে হামলার শিকার দুই ছাত্রলীগ নেতা, অভিযোগ চাঁদাবাজির