অনুমতি ছাড়াই বগুড়ার নির্যাতিত মা-মেয়েকে নিয়ে আদালতে পুলিশ

বগুড়ায় শিশু আদালতের অনুমতি ছাড়াই ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার ছাত্রী এবং তার মাকে আদালতে নিয়ে এসেছে পুলিশ। বুধবার ধার্য তারিখে তাদের আদালতে হাজির করা হয়। এসময় মাকে (বাদী) নিজ জিম্মায় ও নাবালিকা ছাত্রীকে বাবার জিম্মায় নেওয়ার আবেদন নামঞ্জুর করেন আদালত।

বগুড়ার নির্যাতিত মা-মেয়েকে নিয়ে আদালতে পুলিশপরে মা-মেয়েকে আবার রাজশাহীতে সেফহোম ও ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্পেশাল পিপি মো. আমানউল্লাহ। প্রভাবশালী কোনও মহল তদবিরের মাধ্যমে তাদের নিয়ে এসেছে, বলেও ধারণা করেন তিনি।

স্পেশাল পিপি মো. আমানউল্লাহ বলেন, ‘আদালতের অনুমতি ছাড়াই রাজশাহী থেকে মা ও মেয়েকে বগুড়ায় আনার ঘটনায় আমরা হতবাক। ধার্য তারিখে তাদের আদালতে আনার কোনও কথা ছিল না। এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে আদালতের মাধ্যমে কৈফিয়ত তলব করা হবে।’

তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার ওসি (অপারেশন) আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, ‘রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ আমাকে অবহিত করেই ভিকটিমদের বগুড়ায় এনেছিল।’

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আরও জানান, তিনি পারিবারিক কারণে ব্যস্ত থাকায় আদালতে যেতে পারেননি। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ ভিকটিম মা ও মেয়েকে বুধবার ধার্য তারিখে আদালতে হাজির করে। আগামী ১০ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করবেন, বলেও জানান তিনি।

আদালত সূত্র জানায়, ছাত্রী ও তার মাকে নির্যাতন মামলায় (জিআর-৮২১/১৭ সদর) ধার্য তারিখ ছিল বুধবার। রাজশাহীর সেফহোম ও ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে অবস্থানকারী ছাত্রী ও মাকে (বাদী) বগুড়ার শিশু আদালতে হাজির করতে কোনও প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট (পিডব্লিউ) জারি করা হয়নি। এরপরও দুপুরে তাদের আদালতে হাজির করা হয়।

আদালতে নির্যাতিত ছাত্রীর বাবা (ইয়াকুব আলী) দুই ভিকটিমকে নিজ জিম্মায় নেওয়ার আবেদন করেন। বিচারক শুনানি শেষে ওই আবেদন নামঞ্জুর করেন।

নির্যাতিত ছাত্রীর বাবার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল বাছেদ জানান, তার সংগঠন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম থেকে তুফান ও অন্য আসামিদের পক্ষে মামলা পরিচালনা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভিকটিম মেয়েকে বাবার জিম্মায় এবং স্ত্রীকে নিজ জিম্মায় দিতে শিশু আদালতে আবেদন করা হয়েছিলো। কিন্ত আদালত শুনানি শেষে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের সেফহোম ও ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে থাকার সিদ্ধান্ত দেন।

অন্যদিকে, মামলায় গ্রেফতার ১১ জনের মধ্যে তুফান সরকার কাশিমপুর কারাগারে এবং তার শ্বশুর জামিলুর রহমান রুনু জামিনে আছেন। তুফানের স্ত্রী আশা, শ্যালিকা রুমকি, শাশুড়ি রুমিসহ ৯ আসামিকে জেল থেকে আদালতে আনা হলেও তাদের শিশু আদালতে হাজির করা হয়নি। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজত থেকে তাদের বগুড়া কারাগারে পাঠানো হয়।