যমুনায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, হুমকির মুখে দুটি বাঁধ

যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছে (ছবি প্রতিনিধি)বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মী যমুনা নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। এতে দুটি গ্রোয়েন ও হার্ডপয়েন্ট হুমকির মুখে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে জনপ্রতিনিধিরা এবং স্থানীয় জনগণ জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

তবে বালু উত্তোলনের নেতৃত্বদানকারী সারিয়াকান্দি পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি কোরবান আলী ফকির জানান, তারা অনেক দূর থেকে বালু তুলছেন; তাই গ্রোয়েন বা হার্ডপয়েন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হবার সম্ভবনা নেই। রাজনৈতিক মতবিরোধের কারণে কেউ কেউ মিথ্যা অভিযোগ করছেন।

সারিয়াকান্দি পৌরসভার পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মামুনুর রশিদ তরফদার জানান, যমুনা নদীর ভাঙন থেকে সারিয়াকান্দি উপজেলা রক্ষায় ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার সরকার বিভিন্ন পয়েন্টে ছয়টি গ্রোয়েন, স্পার ও হার্ডপয়েন্ট নির্মাণ করেন। তার মধ্যে তিনটি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। অবশিষ্ট আছে কালীতলা গ্রোয়েন বাঁধ, দীঘলকান্দি হার্ডপয়েন্ট ও দেবডাঙ্গা গ্রোয়েন বাঁধ। এর মধ্যে কালীতলা গ্রোয়েন ও দীঘলকান্দি হার্ডপয়েন্টের ওপর সারিয়াকান্দির অস্তিত্ব নির্ভরশীল। গত বছরের বন্যায় পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় কালীতলা গ্রোয়েনের উত্তর পাশে প্রায় ৫০ মিটার দেবে যায়। এ কারণে গ্রোয়েনটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। এ অবস্থায় গত ৪-৫ বছর ধরে পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি কোরবান আলী ফকিরের নেতৃত্বে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতাকর্মীরা যমুনা নদীতে বিশাল ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন। আর বালুগুলো কালীতলা গ্রোয়েনের দক্ষিণ পাশে ফেলছেন। প্রতিদিন ১০০-১৫০ ট্রাক বালু বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হয়। এ বালু বিক্রি শেষ হলে সেখান থেকে বিট বালু বিক্রি করা হবে।

মামুনুর রশিদ তরফদার অভিযোগ করেন, তার এক একর জমিতে জোরপূর্বক বালু ফেলা হচ্ছে। বিনিময়ে তাকে কোনও টাকা দেওয়া হয় না। একই এলাকার হাসু মণ্ডল অভিযোগ করেন, তার চার বিঘা জমিতে জোর করে বালু রাখা হচ্ছে। এতে তিনি জমিতে চাষাবাদ করতে পারছেন না।

এসব অভিযোগের অনুলিপি বগুড়া পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ও সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়েছে। এদিকে বালু উত্তোলন নিয়ে বিরোধে গত ১০ সেপ্টেম্বর প্রতিপক্ষের মারপিটে দুজন আহত হন।

এ ব্যাপারে পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি কোরবান আলী ফকির জানান, রাজনীতি করার পরও তাদের আয়ের কোনও উৎস নেই। তাই প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের শতাধিক নেতাকর্মী বালু উত্তোলন করে থাকেন। তবে তারা গ্রোয়েনের কাছে নয়; প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে ডাকাতমারা এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করেন। পাইপের মাধ্যমে সে বালু কালীতলা গ্রোয়েনের দক্ষিণ পাশে রেখে বিক্রি করে থাকেন। তাই এতে গ্রোয়েনগুলোর ক্ষতি হবার সম্ভবনা নেই। মতবিরোধের কারণে ডিসির কাছে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।

কালীতলা গ্রোয়েন রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা সিরাজগঞ্জ ব্রহ্মপুত্র ডান তীর বাঁধ (বিআরই) বিশেষায়িত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহিনুজ্জামান জানান, দূরে বালু উত্তোলন করলে গ্রোয়েনের ক্ষতি হবার সম্ভবনা নেই। এরপরও তিনি সরেজমিন খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।

আরও পড়ুন:
পদ্মায় নয়, সাগরে মিলছে ইলিশ